পাঁঠার মাংসের বদলে প্লেটে এল গরুর মাংস! পার্ক স্ট্রিটের নামী পাবে চরম হেনস্থার শিকার অভিনেতা সায়ক
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রেস্তরাঁ চত্বরে দীর্ঘক্ষণ উত্তেজনা বজায় থাকে এবং অভিনেতা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তোলেন।
Truth of Bengal: শহর কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত কেন্দ্র পার্কস্ট্রিটের একটি নামী রেস্তরাঁয় শুক্রবার রাতে চূড়ান্ত অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হলেন অভিনেতা তথা জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার সায়ক চক্রবর্তী। সায়কের অভিযোগ, বন্ধুদের সঙ্গে নৈশভোজ করতে গিয়ে তিনি মাটন অর্ডার করেছিলেন, কিন্তু তার পরিবর্তে তাঁদের টেবিলে গরুর মাংস পরিবেশন করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রেস্তরাঁ চত্বরে দীর্ঘক্ষণ উত্তেজনা বজায় থাকে এবং অভিনেতা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তোলেন।
সেই রাতে সায়কের সঙ্গে ছিলেন তাঁর দুই পরিচিত বন্ধু সুকান্ত কুণ্ডু এবং অনন্যা গুহ। তাঁরা জানান যে, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর অত্যন্ত ক্ষুধার্ত অবস্থায় তাঁরা মাটন স্টেক অর্ডার করেন। খাবার আসার পর প্রথম দিকে কিছু না বুঝেই তাঁরা খেতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু স্বাদে সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা খাবারটি পরীক্ষা করেন এবং বুঝতে পারেন যে সেটি পাঁঠার মাংস নয়। এই আবিষ্কারের পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিনেতা। সঙ্গে সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট ওয়েটারকে ডেকে কৈফিয়ত তলব করেন।
পুরো ঘটনাটি সায়ক সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে তুলে ধরেন। ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওতে দেখা যায়, অভিনেতা নিজের ধর্মীয় ভাবাবেগের কথা উল্লেখ করে প্রশ্ন তুলছেন যে, একজন ব্রাহ্মণ হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে না জানিয়ে কেন এই ধরণের খাবার দেওয়া হলো। উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের মাঝে সায়ক ওই কর্মীর কাছে জানতে চান, একইভাবে কাউকে না জানিয়ে নিষিদ্ধ খাবার পরিবেশন করা হলে কি তা গ্রহণ করা সম্ভব? বচসা চলাকালীন ওই কর্মী নিজের ভুল স্বীকার করে নেন এবং জানান যে তিনি অর্ডারটি শুনতে ভুল করেছিলেন।
তবে এই উত্তরে সন্তুষ্ট হতে পারেননি সায়ক। তিনি রেস্তরাঁর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছেও বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান। তাঁর মতে, এটি কেবল অর্ডারের ভুল নয়, বরং গ্রাহকের ধর্মীয় অনুভূতি ও ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর আঘাত। রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ ক্ষমা চাইলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, রেস্তরাঁ চত্বরে দীর্ঘক্ষণ ধরে এই বিতণ্ডা চলে এবং বিষয়টি নিয়ে টলিপাড়াতেও শোরগোল পড়ে যায়।




