বিনোদন

এবার আইনি বিপাকে কবীর সুমন! হিন্দু ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগে দায়ের

সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি প্রকাশ্যে এনে সংগঠনের প্রতিনিধিরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, বুদ্ধিজীবী পরিচয়ের আড়ালে বাঙালি, হিন্দু সমাজ এবং নারীদের প্রতি সুমনের অবমাননাকর ভাষা তাঁরা আর বরদাস্ত করবেন না।

Truth of Bengal: ঘোষিত বিজেপি বিরোধী এবং স্পষ্টবক্তা হিসেবে পরিচিত প্রবীণ সঙ্গীতশিল্পী কবীর সুমন এবার আইনি বিপাকে পড়তে চলেছেন। বরাবরই ‘ঠোঁটকাটা’ স্বভাবের এই শিল্পীর মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। তবে রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর তাঁর বিরুদ্ধে কলকাতার নেতাজিনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ‘জাতির কথা’ নামের একটি সংগঠন। এই সংগঠনের সদস্যদের দাবি, কবীর সুমন বিভিন্ন সময়ে নারীদের অবমাননা করেছেন এবং তাঁর নানা মন্তব্যে সনাতন হিন্দু ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি প্রকাশ্যে এনে সংগঠনের প্রতিনিধিরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, বুদ্ধিজীবী পরিচয়ের আড়ালে বাঙালি, হিন্দু সমাজ এবং নারীদের প্রতি সুমনের অবমাননাকর ভাষা তাঁরা আর বরদাস্ত করবেন না। শিল্পীকে আইনি প্রক্রিয়ায় জেলের ভেতরে ঢোকানোর জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।

যদিও পুলিশ প্রশাসন সূত্রের খবর, এই অভিযোগের ভিত্তিতে কবীর সুমনের বিরুদ্ধে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়নি। আইন অনুযায়ী বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য প্রাথমিক খোঁজখবর শুরু করেছে পুলিশ। মূলত প্রায় তিন বছর আগে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠানে সুমনের করা কিছু বিতর্কিত ও বিরূপ মন্তব্যকে হাতিয়ার করেই এই নতুন অভিযোগটি জমা পড়েছে। তবে এই আইনি তৎপরতার সমান্তরালে গায়কের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান বদল নিয়েও জোর চর্চা শুরু হয়েছে বঙ্গে।

রাজনৈতিক মহলে কবীর সুমন দীর্ঘকাল ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের একনিষ্ঠ সমর্থক ও প্রাক্তন লোকসভা সাংসদ হিসেবে পরিচিত। এমনকি কিছুদিন আগেও ধর্মতলার এক ধরনা মঞ্চে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতিসক্রিয়তার বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। তবে রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর সুর বদলে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে শিল্পী এখন দাবি করছেন, তিনি আসলে কোনওদিনই ‘তৃণমূলপন্থী’ ছিলেন না। এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেন যে, বিগত বাম বা তৃণমূল জমানায় রাজ্যে নারীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত ছিল এবং নবাগত সরকারের কাছেও তিনি সেই ধারা বজায় রাখার প্রত্যাশা করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, ভবিষ্যতে ভোট দিলে তিনি তৃণমূলকেই দেবেন, তবে রাজ্যে যদি নতুন কোনও শক্তিশালী কমিউনিস্ট পার্টির উত্থান ঘটে, তবে এই বৃদ্ধ বয়সেও তিনি সেই দলের সদস্য হতে এবং তাদের জন্য গান বাঁধতে ইচ্ছুক।