সম্পাদকীয়

Price Control: চাইলে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে সরকার

করোনার প্রভাব কাটিয়ে যখন স্বাভাবিক পথে ফিরে আসছিল সারা পৃথিবীর অর্থনীতি, সে সময় আবার ধাক্কা লাগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ।

সুদীপ্ত দে: প্রতিদিন লাগামহীনভাবে বেড়ে চলছে দ্রব্যের মূল্য। সেই তুলনায় বৃদ্ধি পাচ্ছে না সাধারণ মানুষের আয়। কেন্দ্রের ডবল ইঞ্জিন সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন যুক্তি উত্থাপন করা হলেও মানুষের মাঝে আশার সঞ্চার হচ্ছে না। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত সমাজের অবস্থা আরও বেগতিক। দেখে মনে হচ্ছে, সবকিছুই যেন কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে (Price Control)। বিশ্ববাজারের দোহাই দিয়ে ব্যবসায়ীরা অবৈধ মুনাফা অর্জনের নেশায় মত্ত হয়ে পড়েছে। ফলে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে অতীতের সঞ্চয়কে নষ্ট করছে কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে।

[আরও পড়ুন: এই রাশির জাতক-জাতিকার জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ! এক নজরে দেখুন আজকের রাশিফল]

করোনার প্রভাব কাটিয়ে যখন স্বাভাবিক পথে ফিরে আসছিল সারা পৃথিবীর অর্থনীতি, সে সময় আবার ধাক্কা লাগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। আমদানি-রফতানিতে পড়ে ব্যাপক প্রভাব। কিন্তু প্রশ্ন হল, সে সব প্রভাবের ফলেই কি দাম বাড়ছে, নাকি সরকারের কম নজরদারির সুযোগ নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা? অন্যায়ভাবে দাম বৃদ্ধি থেকে ডবল ইঞ্জিন সরকার কখনেও তার দায় এড়াতে পারে না।

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু সেটা যদি হয় লাগামছাড়া তা হলে মানুষের মাঝে অস্থিরতা তৈরি হবে এটাই স্বাভাবিক। বেশি কষ্ট হয় যাদের আয় সীমিত তাদের। সেই সব মানুষের পক্ষে হিসাব মেলানো অনেক কঠিন। মাসের শুরুতে সারা মাসের খরচের জন্য যে বরাদ্দ রাখা হয় তা দিয়ে সারা মাসের খরচ মেটানো যাচ্ছে না। যার ফলে গচ্ছিত টাকা ও ঋণের মাধ্যমে ব্যালেন্স করতে হচ্ছে নতুবা প্রয়োজনীয়তাকে জলাঞ্জলি দিতে হচ্ছে।

পরিবারের খরচ মেটাতে না পারার কারণে অনেকেই যেমন হতাশাগ্রস্ত হচ্ছে অন্যদিকে বিভিন্ন অপকর্মেও পা দিচ্ছে। তা ছাড়াও কেন্দ্রীয় সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর যে সব ব্যবস্থা রয়েছে তাও সঠিকভাবে আয়ের দিক দিয়ে নিম্নশ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছচ্ছে না। বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সরকারের প্রদত্ত সেবার বাইরে মানুষকে অনেক বেশি খরচ করতে হচ্ছে (Price Control)। যে সব পণ্যের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ছাড় দেওয়ার কোনও সুযোগ থাকে না, সেই সব পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের বেলায় সরকারকে আরও বিশেষ ভূমিকা নিতে হবে। অন্যদিকে জনসাধারণকে কিছুটা কষ্ট স্বীকার করে মিতব্যয়ী হতে হবে এবং উৎপাদন ব্যবস্থায় বিশেষ নজর দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমদানিনির্ভরতা কমাতে না পারলে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনা কষ্টসাধ্য ব্যাপার।

এই সমস্যা থেকে বের হয়ে আসতে হলে সরকারের সঙ্গে জনগণকে সম্পৃক্ত হতে হবে। অন্যদিকে সরকারকেও অর্থনীতি শক্তিশালী করার জন্য রফতানির নতুন বাজার খুঁজে বের করতে হবে। না হলে অর্থনীতির ভারসাম্য তৈরি হবে না। যে সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে, সে সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে রফতানি বৃদ্ধি করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যে কথাটি না বললেই নয়, তা হল দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করতে হবে কেন্দ্রের সরকারকে (Price Control)।

[আরও পড়ুন: নবান্ন অভিযান: আন্দোলনকারীদের একাধিক বিস্ফোরক পদক্ষেপের তথ্য দিল পুলিশ]

সরকারের সব বিভাগকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সেই সঙ্গে নিত্যপণ্যের বাজার যেন জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে তার জন্য নিয়মিত বাজার মনিটরিং করতে হবে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে কেউ যেন কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সেদিকে দেখতে হবে। কেন্দ্রের সরকারের উচিত জাত পাতের রাজনীতি ছেড়ে সাধারণ মানুষ, কৃষক শ্রমিকের জীবনযাত্রার মান কীভাবে উন্নয়ন করা যায় সেই দিকে নজর দিতে হবে।

Related Articles