কলকাতা

মোথাবাড়ি-কাণ্ডে ৫৯ দিনের মাথায় চার্জশিট! বিচারক হেনস্থার মামলায় বড় পদক্ষেপ NIA-র

এই মামলার মুখ্য বিচারক সুদীপ্ত কুমার দে-র বেঞ্চে চার্জশিটটি জমা দেওয়া হয়েছে

Truth of Bengal: মালদার কালিয়াচকের মোথাবাড়ি এলাকায় এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন মহিলা বিচারক-সহ বিচারকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রেখে হেনস্থার ঘটনায় বড়সড় পদক্ষেপ করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA)। ঘটনার ঠিক ৫৯ দিনের মাথায় মঙ্গলবার কলকাতার নগর দায়রা আদালতের এনআইএ-র বিশেষ আদালতে প্রথম দফার চার্জশিট পেশ করলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। এই মামলার মুখ্য বিচারক সুদীপ্ত কুমার দে-র বেঞ্চে চার্জশিটটি জমা দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, মোথাবাড়ি কাণ্ডে হওয়া মোট ১২টি মামলার তদন্তভার রয়েছে এনআইএ-র হাতে। এদিন তার মধ্যে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ মামলার চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে দুটি কালিয়াচক থানার এবং দুটি মোথাবাড়ি থানার মামলা। এনআইএ-র আইনজীবী শ্যামল ঘোষ আদালতে জানান, এই পৃথক চারটি মামলায় মোফাক্কেরুল ইসলাম ও একরামুল বাদনানি-সহ মোট ৩১ জন অভিযুক্তের নাম রয়েছে। চার্জশিটভুক্ত ৪টি মামলার ক্ষেত্রে যথাক্রমে ৩, ১৫, ১০ এবং ৩ জন অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পেশ করা এই চার্জশিটে ধৃত মূল অভিযুক্ত মোফাক্কেরুল ইসলাম এবং একরামুল বাদনানির নাম দুটি মামলাতেই রয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে আইনি জালাল শক্ত করতে একাধিক কঠোর ধারা যুক্ত করেছে এনআইএ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১২৬(২), ১৮৯(২), ১৮৯(১), ১৯৫(১), ২২১, ২২৩, ২২৪ এবং ৩৫১(২) ধারায় চার্জশিট পেশ করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি কাজে বাধা, বেআইনিভাবে আটকে রাখা এবং বিচারকদের হেনস্থার মতো গুরুতর অপরাধের ধারাগুলিই এখানে প্রয়োগ করা হয়েছে।

তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন আচমকাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল কালিয়াচকের মোথাবাড়ি এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ ছিল, সমস্ত বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এই ক্ষোভকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। উত্তেজিত জনতা মোথাবাড়ির বিডিও (BDO) অফিসের ভেতরে ঢুকে এসআইআর-এর কাজে যাওয়া বিচারকদের একটি ঘরে অবরুদ্ধ করে ফেলে।

Related Articles