কলকাতা

নতুন তৃণমূলের দলনেতা হচ্ছেন ঋতব্রত, ডেপুটি সন্দীপন-জাভেদ খান! নৌশাদ আলি কক্ষে শুরু ‘অপারেশন জোড়াফুল’

‘নতুন তৃণমূল’ গঠনে চূড়ান্ত চাল! ৫৯ বিধায়কের সই নিয়ে বিধানসভায় ঋতব্রত, সহকারী দলনেতা জাভেদ খান

Truth of Bengal: ছাব্বিশের বঙ্গে ক্ষমতা বদলের পর এবার কি তবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস? বুধবার সকাল থেকেই এই জল্পনা চরম বাস্তব রূপ নিতে শুরু করেছে কলকাতার বিধানসভা চত্বরে। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ সকাল সকালই বিধানসভায় এসে হাজির হয়েছেন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ ও দলছুট বিধায়করা। রাজনৈতিক অলিন্দের খবর, এবার আর কোনও লুকোছাপা নয়, সরাসরি ‘নতুন তৃণমূল’ গঠন করে বিধানসভার স্পিকারের কাছে নিজেদের আসল তৃণমূল হিসেবে দাবি করতে চলেছেন বিদ্রোহীরা। আর এই নতুন দল পরিচালনার জন্য ইতিমধ্যেই পদাধিকারীদের নামও চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে বলে বিশেষ সূত্রে জানা যাচ্ছে।

ঋতব্রত দলনেতা, মমতার ছায়াসঙ্গী জাভেদই এবার সহকারী!

সূত্রের খবর, নতুন যে তৃণমূল গঠিত হতে চলেছে, তার পরিষদীয় দলনেতা হতে চলেছেন প্রাক্তন বামনেতা তথা উলুবেড়িয়ার বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)। তবে সবচেয়ে বড় চমকটি রয়েছে সহকারী দলনেতার পদে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সঙ্গী তথা কলকাতার হেভিওয়েট নেতা জাভেদ খান এবার দলনেত্রীর হাত ছেড়ে বিদ্রোহীদের সহকারী দলনেতা হতে চলেছেন। তাঁর সঙ্গে সহকারী হিসেবে থাকছেন সন্দীপন সাহা। অন্য দিকে, এই নতুন শিবিরের চিফ হুইপ বা মুখ্য সচেতক পদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বিধায়ক আখরুজ্জামানকে।

নৌশাদ আলি কক্ষে রুদ্ধদ্বার বৈঠক, হাজির জাভেদ-অরূপরা

বুধবার সকাল ১০টা বাজতেই বিধানসভায় নাটকীয় তৎপরতা শুরু হয়ে যায়। ঘড়ির কাঁটা ১০টা ছুঁতেই পরিষদীয় চত্বরে এসে পৌঁছন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগে থেকেই সকাল সকাল বিধানসভায় হাজির হতে শুরু করেন বিভিন্ন জেলার একাধিক বিক্ষুব্ধ বিধায়ক। বিদ্রোহীদের এই হাই-প্রোফাইল তালিকায় রয়েছেন শিউলি সাহা, সাবিনা ইয়াসমিন, আখরুজ্জামান, চন্দ্রনাথ সিনহা, অরূপ রায় এবং জাভেদ খানের মতো হেভিওয়েট সব নাম।

বিধানসভার নৌশাদ আলি কক্ষে ইতিমধ্যেই সমস্ত বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের নিয়ে এক জরুরি ও রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, বিধায়ক সন্দীপন সাহা সভাকক্ষে পৌঁছনোর পরেই চূড়ান্ত রণকৌশল নির্ধারণে বসেন তাঁরা।

৫৯ জনের সই! ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়েই স্পিকারের দরজায়

দলত্যাগ বিরোধী আইনের খাঁড়া এড়াতে এবং বিধানসভায় আসল তৃণমূল হিসেবে স্বীকৃতি পেতে যে সংখ্যার প্রয়োজন ছিল, তা অবশেষে জোগাড় করে ফেলেছেন ঋতব্রতরা। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল, প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশের জন্য অন্তত ৫৪ জন বিধায়কের সই দরকার ছিল। আজ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় মোট ৫৯ জন বিধায়কের সই সম্বলিত একটি চূড়ান্ত চিঠি নিয়ে স্পিকারের দপ্তরে হাজির হয়েছেন। এই চিঠিতেই দাবি করা হয়েছে যে, বিধানসভায় তাঁরাই প্রকৃত তৃণমূল এবং দলের প্রতীক ও নামের আসল অধিকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন। নৌশাদ আলি কক্ষের বৈঠক শেষ হতেই এই ৫৯ জনের চিঠি স্পিকারের টেবিলে জমা পড়তে চলেছে। আর এই ঘটনা যদি আজ বাস্তবায়িত হয়, তবে বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা হবে, তা বলাই বাহুল্য।

Related Articles