সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ভিতরে বিলাসবহুল ‘ওয়ো’? তৃণমূলকে তীব্র খোঁচা দিলীপের
দিলীপের দাবি, রাজ্যের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা চলছিল, কিন্তু তৎকালীন সরকার তা দেখেও না দেখার ভান করেছিল।
Truth of Bengal: পোড়া নোট উদ্ধার ঘিরে মঙ্গলবার বিকেল থেকেই চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজ। তবে সন্ধ্যা গড়াতেই সামনে আসে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ। কলেজ চত্বরের ভিতরে তৃণমূল নেতার বিলাসবহুল বেডরুমের হদিশ মেলার দাবি ঘিরে তোলপাড় পড়ে যায়। পাশাপাশি কন্ডোম, মদের বোতল এবং আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের অভিযোগও সামনে আসে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে এমন দৃশ্যের অভিযোগে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে কলেজের পরিবেশ ও প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে। বুধবার প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি নিশানা করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তাঁর মন্তব্য, “শিক্ষার কী হাল! কলেজে দলের ছাত্রীকে ধর্ষণ করছে নেতা, হাসপাতালে চিকিৎসককে খুন করা হচ্ছে। মমতা সবটা জানতেন।” দিলীপের দাবি, রাজ্যের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা চলছিল, কিন্তু তৎকালীন সরকার তা দেখেও না দেখার ভান করেছিল।
অভিযোগ, সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ‘টেরেস ফেসিলিটি’র নামে দু’টি বেডরুম তৈরি করা হয়েছিল। সেই ঘরগুলির উদ্বোধন করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, ওই ঘরগুলি ব্যবহার করতেন কলেজের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা তথা কলেজ পরিচালন সমিতির সদস্য দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ছেলে শিবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওই ঘরগুলিতে এসি, বিছানা, বালিশ, তোষক, অ্যাটাচ বাথরুম-সহ একাধিক সুবিধা ছিল। আরও অভিযোগ, কলেজে কর্মরত কয়েকজনকে ওই ঘরে ম্যাসাজ করাতে বাধ্য করা হত। এমনকি ঘণ্টা হিসেবে ঘর ভাড়া দেওয়া হত বলেও দাবি উঠেছে। ওই ঘর থেকে কন্ডোম এবং কলেজের ছাদ থেকে মদের বোতল উদ্ধার হয়েছে বলে অভিযোগ।
এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “একটা রাজ্যের কী হাল করে ছেড়েছে! কলেজে এসব চলছে। ওনারা কিছু জানতেন না, এটা হতে পারে নাকি? উনি সব জানতেন।” তাঁর বক্তব্য, এই ঘটনাই প্রমাণ করছে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রভাব কতটা গভীরে পৌঁছেছিল। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ওই বেডরুম সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না বলেও জানিয়েছেন। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে। একই সঙ্গে কলেজের ভিতরে কীভাবে এমন পরিকাঠামো তৈরি হল, কার অনুমতিতে তা ব্যবহার করা হত এবং উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলির উৎস কী—তা নিয়ে তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।






