দেশ

প্লাস্টিক থেকে ওষুধ শিল্পে স্বস্তি, কাঁচামালের দাম নিয়ন্ত্রণে আমদানিতে বড় ছাড় সরকারের

২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এই বিশেষ ছাড় কার্যকর থাকবে

Truth Of Bengal: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে বিশ্ববাজারে সরবরাহ শৃঙ্খলে তৈরি হওয়া সংকট মোকাবিলায় বড় পদক্ষেপ নিল ভারত সরকার। কনডম, প্লাস্টিক, বস্ত্র এবং ওষুধ শিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিকে স্বস্তি দিতে নির্দিষ্ট কিছু পেট্রোকেমিক্যাল আমদানির ওপর থেকে সম্পূর্ণ সীমাশুল্ক বা কাস্টমস ডিউটি মকুব করার ঘোষণা করা হয়েছে। ২ এপ্রিল প্রকাশিত সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এই বিশেষ ছাড় কার্যকর থাকবে।

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান অস্থিরতার কারণে বিশ্বজুড়ে পেট্রোকেমিক্যাল কাঁচামালের প্রাপ্যতা এবং দাম নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল ভারতের ঘরোয়া উৎপাদন শিল্পে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতেই আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর থেকে শুল্ক তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। সরকারের এই সময়োপযোগী হস্তক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো জরুরি কাঁচামালের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বিশ্ববাজারের অস্থিরতা থেকে দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা প্রদান করা।

পেট্রোকেমিক্যাল জাত পণ্যগুলি আধুনিক উৎপাদনের মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং, টেক্সটাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস, রাসায়নিক এবং অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ নির্মাণকারী সংস্থাগুলি বিশেষভাবে উপকৃত হবে। কাঁচামাল আমদানিতে খরচ কমলে চূড়ান্ত পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সরকারি আধিকারিকদের মতে, এটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নেওয়া লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ। আমদানিতে এই শুল্ক ছাড়ের ফলে উৎপাদন খরচ কমবে, যা পরোক্ষভাবে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি দামের বোঝা চাপতে দেবে না। আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা সত্ত্বেও এই পদক্ষেপের ফলে ভারতের শিল্পক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Related Articles