ইন্ডিয়া জোটের সভায় বলতে না পেরে রুষ্ট শরিকরা, ড্যামেজ কন্ট্রোলে আসরে মমতা
উদ্ধবের সঙ্গে ফোনে কথা মমতার, দীপাবলির পরেই ফের 'জ্ঞানেশ হটাও' আন্দোলনে বিরোধীরা
Truth of Bengal: দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে অনুষ্ঠিত ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের মেগা সমাবেশ ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে এখন চরম শোরগোল। রবিবার এই হাইপ্রোফাইল সমাবেশে বক্তব্য রাখার সুযোগ না পাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মহারাষ্ট্রের হেভিওয়েট শরিকরা। এই পরিস্থিতিতে জোটে ভাঙন রোধ করতে এবং ক্ষুব্ধ শরিকদের শান্ত করতে তড়িঘড়ি উদ্যোগী হলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রবিবারের জনসভায় শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরের দল এবং শরদ পাওয়ারের এনসিপির একাধিক শীর্ষ নেতা উপস্থিত থাকলেও সময়ের অভাবে তাঁদের কাউকেই মঞ্চে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়নি। শিবসেনা সাংসদ সঞ্জয় রাউত এবং এনসিপির সুপ্রিয়া সুলের মতো হেভিওয়েট নেতারা বলতে না পারায় মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে জোর চাঞ্চল্য শুরু হয়। অন্যদিকে, সিপিআইএমএল লিবারেশনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখার সুযোগ পাওয়ায় জোটের অন্দরে কোন শরিক কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে, সেই পুরনো প্রশ্ন ও অসন্তোষ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে জোটের বৃহত্তর ঐক্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে আশঙ্কা করেছিলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে সোমবার সকালেই শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে সরাসরি ফোনে কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, সময়ের স্বল্পতার কারণেই যে এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা বুঝিয়ে বলেন তৃণমূল নেত্রী। ভবিষ্যতে এই ধরনের ত্রুটি সংশোধন করা হবে এবং জোটের সমস্ত শরিকদের সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে, এমনটাই আশ্বস্ত করেছেন মমতা। ইন্ডিয়া জোটের অন্দরে পারস্পরিক সমন্বয় ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে তিনি যে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছেন, এই পদক্ষেপ তারই স্পষ্ট প্রমাণ। আগামী দিনে হায়দরাবাদে পরবর্তী জনসভার পরিকল্পনা রয়েছে জোটের, তার আগে এই মানভঞ্জন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে যখন এই জল্পনা চলছে, ঠিক সেই দিনেই অপর একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। সোমবারই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে এক বৈঠকে বসেন অজিত পাওয়ার শিবিরের প্রবীণ নেতারা, প্রফুল্ল প্যাটেল, সুনীল তটকরে এবং ছগন ভুজবলরা। এই বৈঠককে ঘিরে এনসিপি-র দুই শিবিরের পুনর্মিলন এবং এনডিএ-র নতুন সমীকরণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন গুঞ্জন। যদিও দলীয় সূত্রে এই জল্পনা খারিজ করা হয়েছে।
সবমিলিয়ে, একদিকে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের খেলা এবং অন্যদিকে বিরোধী জোটের অন্দরের ক্ষোভ সামলানোর চ্যালেঞ্জ, এই দুইয়ের বেড়াজালে আসন্ন দিনে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ঐক্য অটুট রাখা যে বিরাট বড় পরীক্ষা, তা বলাই বাহুল্য।






