কলকাতা

“ইন্দ্রনীল আর মমতা একে অপরের পরিপূরক!”, প্রাক্তন মন্ত্রীর গ্রেফতারে বিস্ফোরক অভিযোগ শুভেন্দুর

নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর বড় ঘোষণা! ৬০ হাজার পদে নিয়োগের সবুজ সংকেত, শিক্ষকদের রাজনীতি নিয়ে বড় নির্দেশ শুভেন্দুর

জ্যোতির্ময় দত্ত, কলকাতা: রাজ্য সরকারি চাকরিতে নিয়োগের বড় বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও বিরোধীদের কড়া ভাষায় বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নবান্নে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন দফতর মিলিয়ে আগেই ৪৫ হাজার পদে নিয়োগের কথা বলা হয়েছিল। নতুন করে আরও ১,২০০টি শূন্যপদ তৈরি করা হয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত মোট ৬০ হাজার শূন্যপদে নিয়োগে প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য সরকার। এর পাশাপাশি শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে শুভেন্দু স্পষ্ট বলেন, “আজকের পর থেকে যে শিক্ষকেরা নিযুক্ত হবেন, তাঁরা সরাসরি প্রত্যক্ষ রাজনীতি করতে পারবেন না। তবে যাঁরা ইতিমধ্যেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হবে না।”

এদিনের সাংবাদিক বৈঠক থেকে চোরবাগান দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৯টি পরিবারের জন্য গ্রুপ-ডি স্তরে চাকরি এবং ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি আসন্ন কালীপুজো, জগদ্ধাত্রী পুজো ও ছটপুজো কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তা ও চন্দননগর-কৃষ্ণনগরের পুজো ব্যবস্থার বিশেষ রূপরেখা তুলে ধরেন তিনি। পশ্চিম বর্ধমানে অবৈধ বালি তোলার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কড়াকড়ির নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান শুভেন্দু। রাজ্য শিল্পায়নের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ৫ তারিখ রাজ্যের নতুন শিল্পনীতি প্রকাশিত হবে। ইতিপূর্বে বেদান্ত গ্রুপ রাজ্যে বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে আসানসোলে তাদের মেগা প্রকল্পে প্রায় ১০ হাজার কর্মসংস্থানের আশ্বাস মিলেছে। শুভেন্দুর দাবি, “আগে রাজ্যে তৃণমূল ছিল বলেই বেদান্ত গ্রুপ বিনিয়োগ করতে পারেনি।”

এদিকে দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিতে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী সুর চড়িয়ে বলেন, “পুলিশ পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ পেয়েই ইন্দ্রনীলকে গ্রেফতার করেছে। তবে এই ঘটনার দায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এড়াতে পারেন না। কারণ আমরা জানতাম ইন্দ্রনীল ও মমতা একে অপরের পরিপূরক। শুধু ইন্দ্রনীলকে দায়ী করা ঠিক নয়।” এমনকি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মেয়ের এনজিও-র সঙ্গেও ইন্দ্রনীল যুক্ত ছিলেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতিকে কোনওভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, “ঠিক সময়ে বড় জায়গায় হাত পড়বে।”

সাংবাদিক বৈঠকের শেষভাগে সিপিএম ও মাওবাদীদের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শুভেন্দু মন্তব্য করেন, তাঁদের মধ্যে গোপন সম্পর্ক রয়েছে, তবে বইয়ের লেনদেন সংক্রান্ত সম্পর্কের বিষয়ে তাঁর জানা নেই। সব মিলিয়ে নিয়োগ, শিল্প এবং দুর্নীতি ইস্যুতে নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর এই বক্তব্য বঙ্গ রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু করেছে।

Related Articles