দেশ

৯ মাসেও মেটেনি বকেয়া ডিএ! সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নের মুখে রাজ্য

মঙ্গলবার ডিএ মামলার শুনানিতে রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিচারপতি পিকে মিশ্র ও বিচারপতি চন্দ্রশেখরের ডিভিশন বেঞ্চ।

Truth of Bengal: ফেব্রুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর কেটে গিয়েছে প্রায় ৯ মাস। তবুও সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ-র পুরো টাকা মেলেনি। কেন এখনও বকেয়া ডিএ মেটানো হয়নি? রাজ্য সরকারের কাছে এবার সেই প্রশ্নই রাখল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। মঙ্গলবার ডিএ মামলার শুনানিতে রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিচারপতি পিকে মিশ্র ও বিচারপতি চন্দ্রশেখরের ডিভিশন বেঞ্চ। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী জানুয়ারি মাসে। শুনানিতে সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠে আসে। আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য জানান, অনুদানপ্রাপ্ত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এখনও তাঁদের বকেয়া ডিএ পাননি। অন্যদিকে আইনজীবী ফিরদৌস শামিমের দাবি, বকেয়া বাবদ ৪২ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার কথা জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত মাত্র ৮ হাজার কোটি টাকা মেটানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী ১৪ ডিসেম্বর আবেদনকারীদের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার কমিটির সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। কমিটির রিপোর্ট জমা পড়ার পর সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই জানুয়ারিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে সুপ্রিম কোর্ট।

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ পাওয়ার দাবিকে কেন্দ্র করে এই মামলার সূত্রপাত। তৎকালীন রাজ্য সরকারের যুক্তি ছিল, মহার্ঘ ভাতা দেওয়া সরকারের ইচ্ছাধীন বিষয়। তবে সেই যুক্তি মানেনি আদালত।পশ্চিমবঙ্গের ২০০৯ সালের বেতন সংশোধন বিধি অনুযায়ী, ডিএ কর্মচারীদের বিধিবদ্ধ অধিকার বলে রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট। অর্থাৎ, মহার্ঘ ভাতা পাওয়া সরকারি কর্মচারীদের প্রতিষ্ঠিত আইনি অধিকার—এ কথা স্পষ্ট করে দেয় সর্বোচ্চ আদালত। ২০১৭ সাল থেকে এই মামলা চলেছে স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল (SAT), কলকাতা হাইকোর্ট হয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, AICPI অনুসারে সরকারি কর্মচারীদের ডিএ দিতে হবে।

২০২২ সালে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ বাবদ প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা পাওনা ছিল বলে জানা যায়। ২০২৩ ও ২০২৪ সালের বাজেটে ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়। ২০২৩ সালে ডিএ বেড়ে ১৮ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ২৯ শতাংশ হয়। রাজ্যের বর্তমান সরকার ইতিমধ্যেই বকেয়া ডিএ-র কিছু অংশ মিটিয়েছে। কিন্তু অনুদানপ্রাপ্ত বা ‘গ্রান্ট ইন এইড’ কর্মচারীদের অভিযোগ, তাঁদের বকেয়া মেটানোর ক্ষেত্রে এখনও কোনও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

Related Articles