দেশ

উত্তরপ্রদেশে ২০০ আসন চাইছে কংগ্রেস, ‘জেতার ক্ষমতাই আসল’ বার্তা অখিলেশের

তবে ৪০৩ আসনের বিধানসভায় কংগ্রেসের ১৭৫ থেকে ২০০টি আসনে লড়ার দাবি নিয়ে আপত্তি রয়েছে সমাজবাদী পার্টির একাংশের

Truth of Bengal: উত্তরপ্রদেশের আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আসন সমঝোতা নিয়ে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ৪০৩ আসনের বিধানসভায় কংগ্রেসের ১৭৫ থেকে ২০০টি আসনে লড়ার দাবি নিয়ে আপত্তি রয়েছে সমাজবাদী পার্টির একাংশের। তাদের বক্তব্য, আসন চাইলেই হবে না, নির্বাচনে জেতার ক্ষমতাকেই আসন বণ্টনের প্রধান মাপকাঠি করতে হবে।

কংগ্রেসের উত্তরপ্রদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা রাজেন্দ্র পাল গৌতম জানিয়েছেন, সম্ভাব্য জয়ের কথা মাথায় রেখে ১৭৫ থেকে ২০০টি আসনের একটি প্রাথমিক তালিকা সমাজবাদী পার্টির নেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই দুই দলের নেতৃত্ব আসন সমঝোতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় বসবে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে চূড়ান্ত আসন সংখ্যা নিয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

সমাজবাদী পার্টির এক প্রবীণ নেতার বক্তব্য, দলের প্রধান অখিলেশ যাদব আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নির্বাচনে জেতার সম্ভাবনাই হবে আসন বণ্টনের প্রধান শর্ত। তাঁর মতে, রাজনৈতিক আলোচনায় যে কেউ যে কোনও দাবি জানাতে পারেন। কিন্তু গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছতে হলে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হবে।

কংগ্রেসের আসন দাবির পিছনে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল বড় ভূমিকা নিয়েছে। ওই নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেস ছটি আসনে জয়ী হয়েছিল। অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টি পেয়েছিল ৩৭টি আসন। বিজেপির আসন সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৩৩-এ। এই ফলাফলকে জোটের শক্তির প্রমাণ হিসাবে দেখছে কংগ্রেস।

তবে উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের রাজনৈতিক প্রভাব দীর্ঘদিন ধরেই কমেছে। ১৯৮৯ সালে শেষবার রাজ্যে ক্ষমতায় থাকার পর থেকে দলটির নির্বাচনী সাফল্য ক্রমশ নিম্নমুখী। ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে একা লড়ে কংগ্রেস পেয়েছিল মাত্র দু’টি আসন। ২০১৭ সালে দলটি সাতটি আসনে জয়ী হয়েছিল।

অন্যদিকে, অখিলেশ যাদব জানিয়েছেন, বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে সরানোই বিরোধী জোটের সম্মিলিত লক্ষ্য। কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি এবং বিরোধী জোটকে আরও শক্তিশালী করার পক্ষেও সওয়াল করেছেন তিনি।

আসন্ন নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেস একসঙ্গে লড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে আসন বণ্টন নিয়ে দুই দলের দরকষাকষি কতটা সহজে মেটে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Related Articles