জন্মের আগেই মাধ্যমিক পাশ! হাসিরানি রথের প্রার্থীপদ খারিজের দাবিতে হাইকোর্টে কংগ্রেস
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন! হাসিরানি রথের বিতর্কিত হলফনামা নিয়ে বৃহস্পতিবারই শুনানির সম্ভাবনা
Truth of Bengal: হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের নির্বাচন সংক্রান্ত হলফনামাকে কেন্দ্র করে দেখা দিল নজিরবিহীন আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক! হলফনামায় বিজেপি প্রার্থীর দেওয়া জন্মসাল ও শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্যে চরম অসঙ্গতি তুলে ধরে এবার সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করল পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস। নির্বাচনে পেশ করা তথ্যে বড়সড় কারচুপি ও অসত্যের অভিযোগ তুলে বিজেপি প্রার্থীর প্রার্থিপদ সম্পূর্ণ বাতিলের আর্জি জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। বুধবার উচ্চ আদালতের বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের এজলাসে বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে উত্থাপন করেন কংগ্রেস নেতা তথা প্রবীণ আইনজীবী।
কংগ্রেস নেতৃত্বের আইনজীবী আদালতে সওয়াল করে জানান, হাসিরানি রথের নির্বাচনী হলফনামায় তাঁর জন্ম তারিখ ও শিক্ষাগত যোগ্যতার যে পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে, তা কার্যত বাস্তব ও বাস্তবসম্মত বিজ্ঞানের বাইরে। হলফনামায় বিজেপি প্রার্থী উল্লেখ করেছেন, বর্তমানে তাঁর বয়স ৬০ বছরের সামান্য বেশি, অর্থাৎ সেই হিসেব অনুযায়ী তাঁর জন্ম আনুমানিক ১৯৬৬ সাল নাগাদ। অথচ একই হলফনামার অন্য পাতায় তিনি উল্লেখ করেছেন যে তিনি নাকি মাধ্যমিক পাশ করেছেন ১৯৬৫ সালে! অর্থাৎ জন্ম নেওয়ার এক বছর আগেই কীভাবে একজন ব্যক্তি মাধ্যমিক পাশ করতে পারেন, তা নিয়ে চরম বিস্ময় ও তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
শুনানি চলাকালীন বিচারপতি কৃষ্ণ রাও কংগ্রেসের আইনজীবীর কাছে স্পষ্ট জানতে চান, মামলাকারীরা ঠিক কী প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ চাইছেন? জবাবে আইনজীবী জানান, হলফনামায় যদি ভুল বা ভুয়ো শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য পেশ করা হয়ে থাকে, তবে হাসিরানি রথের প্রার্থিপদ অবিলম্বে খারিজ করা উচিত। নির্বাচন কমিশন সমস্ত নথি যাচাই করা সত্ত্বেও এই চরম অসঙ্গতি কীভাবে এড়িয়ে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। একই সঙ্গে আইনজীবী আদালতকে আশ্বস্ত করে জানান, এই প্রার্থিপদ বাতিল হলে উপনির্বাচনে কোনও প্রভাব পড়বে না, কারণ নির্বাচনে আরও প্রার্থী লড়াই করছেন। যুক্তি শোনার পর বিচারপতি মামলা দায়ের করার আনুষ্ঠানিক অনুমতি দিয়েছেন এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবারই এই হাইভোল্টেজ মামলার শুনানির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, এই বিতর্ক সামনে আসতেই গত মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছিল প্রদেশ কংগ্রেস। কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এক বিবৃতিতে দাবি করেন, “গুরুতর তথ্য গোপনের প্রমাণ মেলার পরেও কমিশন আশ্চর্যজনকভাবে নীরব।” তবে কংগ্রেসের এই সমস্ত দাবিকে ফালতু রাজনৈতিক স্ট্যান্ড বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। পদ্ম শিবিরের পাল্টা দাবি, নন্দীগ্রামে নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরেই কংগ্রেস রাজনৈতিকভাবে এই ব্যর্থ ও হাস্যকর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।






