ত্রিপুরার যুবককে বর্ণবিদ্বেষমূলক কটাক্ষ করায় দিল্লির নেটপ্রভাবীকে হুঁশিয়ারি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর
ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের প্রতি বর্ণবিদ্বেষ ও বৈষম্যের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
Truth of Bengal: ত্রিপুরার এক যুবককে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করে বিতর্কে দিল্লির সমাজমাধ্যম তারকা আমির শোকিন। তাঁর প্রকাশিত একটি ভিডিয়োয় উত্তর-পূর্ব ভারতের ওই যুবককে ‘চিনা’ বলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি বর্ণবিদ্বেষমূলক গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠেছে। ভিডিয়োটি ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিবাদ। ঘটনায় পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছে ত্রিপুরা সরকার। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুও। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ‘এই দুষ্ট লোক শাস্তি পাবেই।’
ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের প্রতি বর্ণবিদ্বেষ ও বৈষম্যের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ, আমিরের ভিডিয়োয় এক যুবককে তাঁর চেহারার ভিত্তিতে অপমান করা হয়। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়তেই আর একটি সমাজমাধ্যম পোস্টে ক্ষমা চান আমির। তাঁর দাবি, ভিডিয়োয় থাকা যুবক তাঁর পরিচিত এবং গোটা ঘটনাটিই পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছিল। কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
আমির লেখেন, ‘আমার কোনও খারাপ কথা বলার উদ্দেশ্য ছিল না। কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি। আমি সবাইকে সম্মান করি। ত্রিপুরার ভাইদের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইছি। ভ্রাতৃত্বই সবার আগে।’ তবে তাঁর এই ক্ষমাপ্রার্থনার পরেও বিতর্ক থামেনি।
ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা রাজ্যের পুলিশপ্রধানকে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আইন মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার। তিপ্রা মোথার প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত কিশোর মানিক্য দেববর্মাও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ত্রিপুরার মানুষকে নিয়ে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্যকে নিছক মজা বা সমাজমাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়ার কৌশল হিসাবে দেখা উচিত নয়।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘এই দুষ্ট লোক শাস্তি পাবেই।’ অভিযোগ দায়ের করতে দেরি হলেও দিল্লি ও ত্রিপুরা পুলিশ উপযুক্ত পদক্ষেপ করবে বলে আশাপ্রকাশ করেছেন অরুণাচল প্রদেশের এই নেতা। তাঁর মতে, সমাজে এ ধরনের ঘৃণ্য আচরণ যাঁরা সহ্য করেন, তাঁরাও বিদ্বেষ ছড়ানোর পরিবেশ তৈরিতে দায় এড়াতে পারেন না।
উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্যের ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। এর আগে অরুণাচল প্রদেশের মানুষের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে ইউটিউবার পরস সিংকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে তিনি ক্ষমা চান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চেহারা, ভাষা, জাতিগত পরিচয় কিংবা অঞ্চলকে কেন্দ্র করে কাউকে অপমান করা কখনওই নিছক রসিকতা হতে পারে না। সমাজমাধ্যমে জনপ্রিয়তা থাকলেই যা খুশি বলার অধিকার তৈরি হয় না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পাশাপাশি অন্যের মর্যাদা ও অধিকারকে সম্মান করাও জরুরি। তাই এই ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত পদক্ষেপ এবং বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে স্পষ্ট সামাজিক অবস্থানের দাবি উঠেছে।






