দেশ

জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েও পাত্তা দেয়নি মোদি সরকার? আরটিআই-এর জবাবে ফাঁস চাঞ্চল্যকর তথ্য!

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে লুকিয়ে ক্যাবিনেট সচিবকে চিঠি! কেন পদক্ষেপ করল না সচিবালয়?

Truth of Bengal: নির্বাচন কমিশনারদের তরফ থেকে গুরুতর অভিযোগ পাওয়ার পরেও নরেন্দ্র মোদি সরকার কোনও পদক্ষেপ করেনি, সম্প্রতি একটি আরটিআই (RTI) রিপোর্টের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসা এমনই এক তথ্যে জাতীয় রাজনীতিতে চরম শোরগোল পড়ে গেছে। দিনকয়েক আগেই সংবাদমাধ্যমে সামনে এসেছিল যে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অন্ধকারে রেখে ক্যাবিনেট সচিবের কাছে গোপন চিঠি পাঠিয়েছিলেন দুই সহকারী নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী। আর এবার আরটিআই-এর মাধ্যমে জানা গেল যে, সেই চিঠির ভিত্তিতে ক্যাবিনেট সচিবালয় শেষ পর্যন্ত কোনও রকম প্রশাসনিক পদক্ষেপই গ্রহণ করেনি।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এত বড় অভিযোগ পাওয়ার পরেও কেন নীরব ছিল ক্যাবিনেট সচিবালয়? আরটিআই-এর দেওয়া জবাবে জানানো হয়েছে যে, ক্যাবিনেটের কাছে যে চিঠিগুলি এসে পৌঁছয় সেগুলি ব্যক্তিগতভাবে লেখা হয়েছিল। কমিশনের তরফ থেকে সরকারিভাবে কোনো অভিযোগ বা চিঠি জমা দেওয়া হয়নি। সেই কারণেই সচিবালয় সিদ্ধান্ত নেয় যে, যদি কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যম ছাড়া ব্যক্তিগত চিঠির প্রেক্ষিতে কোনও পদক্ষেপ করা হয়, তবে তা সরাসরি নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ কাজে হস্তক্ষেপ করার সমতুল্য হবে। যদিও সচিবালয় প্রাথমিক পর্যায়ে মনে করেছিল যে অভিযোগগুলি অত্যন্ত গুরুতর এবং তা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা দরকার, তবুও তাকে সরকারি অভিযোগ হিসেবে গণ্য করা যায়নি।

সূত্রের খবর, গত ২৯ জুলাই তারিখের ওই চিঠিগুলি ‘সেবা তীর্থ’ কমপ্লেক্সে (যেখানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও ক্যাবিনেট সচিবালয় অবস্থিত) এসে পৌঁছেছিল। মূলত ২৮ জুলাই জারি করা কাজের বণ্টন সংক্রান্ত একটি নতুন আদেশের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েই কমিশনাররা ক্যাবিনেট সচিবকে চিঠি লিখেছিলেন। ওই আদেশে নিয়মের চরম লঙ্ঘন হয়েছে বলে দাবি করা হয়। কমিশনারদের অভিযোগ ছিল, এই পরিবর্তনের ফলে নির্বাচনী তালিকার আইটি কাঠামোর ওপর তদারকির একটি মূল স্তর কার্যত বাদ পড়ে গেছে এবং এই সমস্ত পরিবর্তন তাঁদের সম্পূর্ণ অগোচরেই করা হয়েছিল, যা প্রচলিত রীতির থেকে আমূল বিচ্যুতি। যদিও পরবর্তী সময়ে সেই বিতর্কিত বণ্টন আদেশটি বাতিল করা হয়।

অন্যদিকে, ২৬ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে দাবি করা হয় যে, মন্ত্রিপরিষদের কাছে পাঠানো ওই চিঠিটি কমিশনের কোনো নীতিগত বিষয় বা আইটি বিভাগের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। বরং তা ছিল নির্বাচন কমিশনেরই (ECI) কর্মরত একজন নির্দিষ্ট কর্মকর্তার কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত। তা সত্ত্বেও আরটিআই-এর মাধ্যমে এই চিঠি চালাচালির তথ্য প্রকাশ্যে আসায় নির্বাচন কমিশন ও সরকারের অন্দরের সমীকরণ নিয়ে তীব্র জল্পনা ও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

Related Articles