রাজ্যের খবর

“ভাবছিলাম এনকাউন্টার করে দেবে!”, জেল থেকে বেরিয়ে বিস্ফোরক মিলন

হাইকোর্টের জামিনে মুক্ত হয়েই নন্দীগ্রামে ভোটপ্রচারে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান

Truth of Bengal: আগামী ৬ অক্টোবরের বহুল চর্চিত নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের ঠিক মুখে অবশেষে জামিনে মুক্ত হলেন নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। প্রায় ১৯ বছরের পুরোনো একটি ফৌজদারি মামলায় গত তেরো দিন ধরে জেলবন্দি থাকার পর মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ থেকে অন্তর্বর্তী জামিন পান তিনি। সেই আইনি আদেশের ভিত্তিতেই বুধবার দুপুরে হলদিয়া সংশোধনাগার থেকে সসম্মানে বাইরে বেরোন মিলন প্রধান। তবে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ২১ অক্টোবর তাঁকে পুনরায় আইনানুগ প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।

জেল থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতেই চক্রান্ত ও হেনস্তার অভিযোগ তোলেন মিলন প্রধান। উত্তেজিত কণ্ঠে তিনি দাবি করেন, “আমাকে যখন গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন চোখে গামছা বেঁধে গাড়িতে তোলা হয়েছিল। একটা সময় সত্যি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম, ভেবেছিলাম অসাধু পুলিশ কর্মকর্তারা আমাকে হয়তো এনকাউন্টারই করে দেবে!” এর পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে গুরুতর নালিশ ঠুকে তিনি জানান, কাস্টডিতে থাকাকালীন তাঁর ওপর ক্রমাগত নন্দীগ্রামের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো ও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করার জন্য অবৈধ মানসিক চাপ তৈরি করা হচ্ছিল।

উল্লেখ্য, নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে পদ্ম শিবিরের প্রার্থী বর্ষীয়ান হাসিরানি রথের জয়ের সম্ভাবনা প্রবল হতে দেখে আগেভাগেই নিজের প্রার্থী ফিরিয়ে নেয় বিরোধী তৃণমূল। পরবর্তীতে পরিস্থিতির সুযোগ নিতে কংগ্রেসের মিলনের কাঁধে ভর দেওয়ার কৌশল নেয় কালীঘাট। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। বুধবার জেলমুক্তির পরপরই মিলন জানান যে, তিনি সমস্ত বাধার প্রাচীর ডিঙিয়ে বুধবার থেকেই নন্দীগ্রামের প্রতিটি বুথে নির্বাচনী প্রচার শুরু করছেন।

নিজের বক্তব্যে নন্দীগ্রামের পিছিয়ে থাকা এলাকাগুলির পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে মিলন প্রধান বলেন, “আজও এলাকার সাধারণ মানুষকে পুকুরের জল খেতে হয়। শুভেন্দু অধিকারীকে যে ভূমি আন্দোলন সর্বভারতীয় রাজনীতিতে পরিচিতি দিয়েছে, সেই পুরনো ঘটনা ও মামলাকে পরিকল্পিতভাবে ঢাল বানিয়ে আমাকে জেলে আটকে রাখার চক্রান্ত করা হয়েছিল, যাতে আমি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে না পারি।” যদিও সমস্ত বাধা পেরিয়ে আদালতের রায়ে জামিন পাওয়ায় এবার নন্দীগ্রামের নির্বাচনী ময়দানে লড়াই আরও জোরদার হতে চলেছে।

Related Articles