রাজ্যের খবর

নন্দীগ্রাম আসন ছাড়তে চেয়ে শীর্ষ কংগ্রেস নেতাকে ফোন মমতার! পাল্টা কী বার্তা হাইকমান্ডের?

প্রার্থীর গায়ে 'নিয়োগ দুর্নীতির' দাগ হতেই ব্যাকফুটে কালীঘাট? উপনির্বাচনে বিজেপির ভয়ে কংগ্রেসের দরবারে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী!

Truth of Bengal: ৬ অক্টোবরের হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হতেই এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড় নিল বঙ্গ রাজনীতি। রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর ও দলে ব্যাপক ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে এবার কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে উপনির্বাচনী ‘জোটে’র প্রস্তাব পাঠালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, এআইসিসির (AICC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কেসি বেনুগোপালকে সরাসরি ফোন করে বিজেপির জোয়ার আটকানোর নামে যৌথ লড়াইয়ের আকুতি জানান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি কংগ্রেসকে নন্দীগ্রাম আসন ছেড়ে দিয়ে রেজিনগরে তৃণমূলের প্রার্থীকে সমর্থনের হাত বাড়ানোর আর্জিও জানান তিনি।

তবে মমতার এই আকস্মিক ‘জোট বার্তা’কে মুহূর্তের মধ্যে খারিজ করে দিয়েছে দিল্লি হাইকমান্ড এবং প্রদেশ কংগ্রেস। ২০১১ সাল পরবর্তী সময়ে তৃণমূল জমানায় রাজ্যজুড়ে অগণিত কংগ্রেস কর্মীদের ওপর ‘অত্যাচার’, মিথ্যা মামলা ও দল ভাঙানোর রাজনৈতিক ইতিহাস স্মরণ করিয়ে এক লহমায় এই সমঝোতার প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছে হাত শিবির। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার সাফ জানিয়েছেন, “অতীতে সুযোগ বুঝে জোট ভেঙে বেরিয়ে যাওয়ার অভ্যাস যাঁদের, তাঁদের ওপর ভরসা করা অসম্ভব। যদি সততাই থেকে থাকে, তবে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে আমাদের ঘোষিত প্রার্থীদের নিঃশর্ত সমর্থন দিক কালীঘাট!”

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নন্দীগ্রামে কালীঘাট তৃণমূলের মনোনীত প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে-র বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের প্রাথমিকে ‘শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি’তে যুক্ত থাকার মারাত্মক অভিযোগ উঠতেই ব্যাকফুটে পড়ে যান মমতা। স্থানীয় সংগঠনে প্রার্থী নিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হওয়ায় এবং যোগ্য মুখ না পেয়ে বাধ্য হয়েই তিনি তড়িঘড়ি দিল্লি কংগ্রেসের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি। রেজিনগরে ইতিমধ্যে কংগ্রেসের টিকিট পেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মহম্মদ আব্দুল্লাহিল কাফি এবং নন্দীগ্রামে লড়ছেন মিল্টন প্রধান।

অন্যান্য দিকে, প্রতীক দ্বন্দ্বে জর্জরিত তৃণমূলের ‘ঋতপন্থী’ দলীয় শিবিরও পিছিয়ে নেই। জোড়াফুল প্রতীকের আইনি লড়াইয়ের মাঝেই ঋতব্রত শিবির নন্দীগ্রামে এহতাশামুল হক এবং রেজিনগরে সফিউজ্জমান শেখকে প্রার্থী করে ময়দানে নেমে পড়েছে। অন্যদিকে নবান্নে আসীন শাসক দল বিজেপির কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণের অগ্নিপরীক্ষায় মমতা শিবির। উপনির্বাচনে প্রার্থীর গায়ে দুর্নীতির কালি এবং হাত শিবিরের দরজা একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মমতার রাজনৈতিক কৌশল বড়সড় ধাক্কা খেল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Related Articles