দেশ

দাউদ ভারতের জঙ্গি! রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টে চটে লাল দিল্লি, কী জবাব দিল ভারত?

পাকিস্তানকেই মোক্ষম খোঁচা! ওসামা বিন লাদেনের উদাহরণ টেনে দাউদ কাণ্ডে গর্জে উঠল ভারত!

Truth of Bengal: কুখ্যাত আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন তথা মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি দাউদ ইব্রাহিম ভারতে বসবাস করত এবং তার গ্যাং ‘ডি কোম্পানি’ও ভারতের, রাষ্ট্রসংঘের সন্ত্রাস দমন ও মানবাধিকার বিষয়ক এক বিশেষ পর্যবেক্ষকের প্রতিবেদনে সম্প্রতি এমনই এক তথ্যগত ত্রুটিপূর্ণ দাবি করা হয়েছে। আর এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই আন্তর্জাতিক মহলে চরম শোরগোল ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চুপ করে না থেকে রাষ্ট্রসংঘের ওই পর্যবেক্ষকের কঠোর সমালোচনায় মুখর হয়েছে নয়াদিল্লি। শুধু তাই না, লস্কর বা দাউদের আশ্রয়দাতা দেশ পাকিস্তানকে একহাত নিয়ে ওসামা বিন লাদেনের প্রসঙ্গ টেনে এনে কড়া জবাব দিয়েছে ভারত।

গত জুলাই মাসে “মানবাধিকার রক্ষায় সংগঠিত অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ” শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ পর্যবেক্ষক বেন সল। সেই রিপোর্টেই দাউদের ‘ডি-কোম্পানি’কে ভারতীয় বলে উল্লেখ করা হয়। জানা যায়, এই ধরনের বিশেষ পর্যবেক্ষকরা রাষ্ট্রসংঘের কাছ থেকে কোনও প্রত্যক্ষ পারিশ্রমিক পান না এবং তাঁদের সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করার কথা। কিন্তু এহেন তথ্যগত অসঙ্গতিতে ভরা ‘ত্রুটিপূর্ণ’ রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রঘু পুরী। শুধু তাই নয়, এই গুরুতর ভুলের জন্য সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষক সলের কাছে জবাবদিহিও তলব করেছে ভারত।

রাষ্ট্রসংঘে ভারতের প্রতিনিধি রঘু পুরী অত্যন্ত জোরালো ভাষায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ২০০৩ সালে দাউদ ইব্রাহিম আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার বহু আগেই ভারত থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। এরপর অন্য একটি দেশে গিয়ে সে আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি করে, যার ফলেই সে পরবর্তীকালে বিশ্বজুড়ে প্রধান জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত হয়। নাম না করে পাকিস্তানকে কটাক্ষ করে পুরী সরাসরি বলেন যে, আজ পর্যন্ত দাউদ ভারতে একজন পলাতক অপরাধী ছাড়া আর কিছুই নয়। রাষ্ট্রসংঘের ১২৬৭ নিষেধাজ্ঞা কাঠামোর নিয়ম মেনেই তাকে বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

পাশাপাশি, লাদেনের নিকেশ হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে নয়াদিল্লির প্রতিনিধি স্পষ্ট জানান যে, রাষ্ট্রসংঘের তালিকা অনুযায়ী দাউদ বর্তমানে এমন একটি দেশেই লুকিয়ে রয়েছে এবং বসবাস করছে, ঠিক যে দেশটিতে একসময় ওসামা বিন লাদেনকে খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল এবং খতম করা হয়েছিল। ১৯৯৩ সালের ভয়াবহ মুম্বই ধারাবাহিক বিস্ফোরণ-সহ ভারতে ঘটে যাওয়া একাধিক রক্তক্ষয়ী সন্ত্রাসী হামলায় ডি-কোম্পানি এবং দাউদ ইব্রাহিমকে যে ভারত এখনও সক্রিয়ভাবে খুঁজে চলেছে, তাও জোরালোভাবে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে ভারত।

Related Articles