দেশ

একটা কেন্দ্রেই ১০ হাজার ভোটারের তথ্যে গরমিল! কংগ্রেস হাটে হাঁড়ি ভাঙতেই সাসপেন্ড দুই নির্বাচন আধিকারিক

ভোটার তালিকায় মারাত্মক কারচুপি! কংগ্রেসের অভিযোগ সত্যি প্রমাণ করে বড় পদক্ষেপ কমিশনের!

Truth of Bengal: উত্তরপ্রদেশের স্রেফ একটিমাত্র বিধানসভা কেন্দ্র, পিলভিট সদর। আর সেখানেই ভোটার তালিকায় প্রায় সাড়ে ১০ হাজার ভোটারের নামের তথ্যে ব্যাপক গরমিল ধরা পড়ল। দিনকয়েক আগে সাংবাদিক সম্মেলন করে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছিল খোদ কংগ্রেস। আর সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, কংগ্রেসের আনা সেই গুরুতর অভিযোগ বিন্দুমাত্র অস্বীকার না করে তা একপ্রকার রাতেই মেনে নিল নির্বাচন কমিশন। শুধু তাই নয়, অনিয়মের সত্যতা প্রমাণিত হতেই অভিযুক্ত দুই আধিকারিক ও এক কম্পিউটার কর্মীর বিরুদ্ধে চরম শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হয়েছে।

কিছুদিন আগে উত্তরপ্রদেশে এক সাংবাদিক বৈঠক করে কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনেত এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভানেত্রী আরাধনা মিশ্র মোনা বিস্ফোরক দাবি করেছিলেন যে, রাজ্যের ভোটার তালিকায় বড়সড় কারচুপি চলছে। শুধু পিলভিট সদর কেন্দ্রের তথ্য তুলে ধরে তাঁরা দাবি করেন, স্রেফ ওই একটি কেন্দ্রেই প্রায় ১৩ হাজার ১৫০ জন ভোটারের এপিক (EPIC) নম্বর হুবহু এক, অথচ তাঁদের সকলের নাম ও পরিচয় সম্পূর্ণ আলাদা। একই ধরনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছিল সমাজবাদী পার্টিও (SP)। দুই বিরোধী দলের কাছ থেকে এই অভিযোগ পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসে উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) দফতর এবং শুরু হয় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত।

সেই তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। তদন্তে দেখা যায়, পিলভিট সদর কেন্দ্রে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৯টি ‘ফর্ম এইট’ (Form 8) পূরণ করে ভোটার তালিকার নাম বদলের আবেদন জমা পড়েছিল এবং সেইমতো তথ্য সংশোধনও করা হয়েছিল। কিন্তু সবথেকে বড় গোলমাল হল, ওই সমস্ত সংশোধন বা পরিবর্তনের পক্ষে প্রয়োজনীয় কোনও বৈধ নথিই কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার ৪৭০ জন ভোটারের তথ্যে গুরুতর গরমিল ধরা পড়ে। তড়িঘড়ি পিলভিটের দুই ইআরও (ERO)-কে সাসপেন্ড করে দিয়েছে কমিশন এবং এক কম্পিউটার সহযোগীকে স্থায়ীভাবে কাজ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, অভিযুক্ত ওই তিন জনের বিরুদ্ধেই ভবিষ্যতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করার স্পষ্ট নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, সম্ভবত ভারতীয় নির্বাচনী ইতিহাসে এই প্রথমবার ভোটার তালিকায় কারচুপি নিয়ে কংগ্রেসের করা কোনও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রকাশ্যে স্বীকার করে নিল কমিশন এবং তার ভিত্তিতে এত বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপও করা হলো। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলির চলমান আন্দোলন ও প্রতিবাদের পালে হাওয়া জোগাতে এই ঘটনাকে একটি বড় রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে হাত শিবির।

Related Articles