দেশ

“আগামী ৩০ বছরেও ক্ষমতায় আসবে না কংগ্রেস!” বিদেশযাত্রার মাঝেই রাহুলকে চরম কটাক্ষ অমিত শাহের

প্রতি ছয় মাস অন্তর বিদেশে পালানো মানুষ আমি দেখিনি! ভিয়েতনাম সফর নিয়ে রাহুলকে তুলোধোনা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

Truth of Bengal: ‘ইন্ডি’ জোটের আন্দোলন ও এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে যখন জাতীয় রাজনীতি উত্তপ্ত, ঠিক সেই সময়ই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বিদেশ সফরকে হাতিয়ার করে তীব্র আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দিল্লির দূষণ জর্জরিত যমুনা নদী পরিষ্কারের এক বিশাল আর্থিক প্রকল্পের উদ্বোধন করতে গিয়ে নাম না করে রাহুল গান্ধীকে চরম কটাক্ষ করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, আগামী ৩০ বছরের মধ্যেও কেন্দ্রে কংগ্রেসের ক্ষমতায় আসার কোনো সম্ভাবনা নেই।

চারদিনের সফরে বর্তমানে ভিয়েতনামে অবস্থান করছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, এমনটাই খবর রয়েছে সূত্রের মারফত। এই প্রসঙ্গেই কটাক্ষের সুরে অমিত শাহ বলেন, “আমি জানি আপনি এখন আমার কথা শুনতে পাচ্ছেন না, বিদেশে কোথাও বসে আছেন। কেন গেছেন তার ব্যাখ্যাও দিচ্ছেন না। তবে তাতে কিছু যায় আসে না, ওটা আপনার ব্যক্তিগত জীবন। কিন্তু দিল্লিতে পা রাখার পর আমার কথাটি ভাল করে মাথায় রাখবেন, জেনে রাখুন, আগামী তিরিশ বছরেও আপনারা ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন না।” বিগত কয়েক দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেসের ভোট বাক্সে খরা চলছে, সে কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

তৃণমূল জমানার প্রসঙ্গ টেনে অমিত শাহ দাবি করেন যে, বিগত ৫৪ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে কোনো নির্বাচন জিততে পারেনি কংগ্রেস। এছাড়া অরুণাচল প্রদেশে ১২ বছর এবং দিল্লিতে ১৮ বছর ধরে তারা ক্ষমতার বাইরে রয়েছে। যখনই বিজেপি ঘোষণা করে যে তারা আগামী ৩০ বছর ক্ষমতায় থাকবে, তখন বিরোধী দলগুলি নির্বাচন কমিশনে কারচুপির অভিযোগ তোলে বলে তোপ দাগেন তিনি। কটাক্ষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, “এমন কাউকে দেখিনি যিনি প্রতি ছয় মাস অন্তর বিদেশে পাড়ি দেন। আমি ভারতেই জন্মেছি, এখানেই থাকি এবং এখানেই মৃত্যুবরণ করব।”

উল্লেখ্য, এসআইআর প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়ম ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে দেশজুড়ে প্রতিবাদ আন্দোলন চালাচ্ছে ‘ইন্ডি’ জোট। এই আবহে রাহুল গান্ধীর বিদেশযাত্রার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ শেয়ার করেছে বিজেপি, যেখানে তাঁকে ভিয়েতনামগামী বিমানে দেখা গিয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, প্রতিবাদের মাঝেই নেতার হঠাৎ এই বিদেশ সফরের আসল উদ্দেশ্য কী?

বিজেপি নেতা সম্বিত পাত্র ও প্রদীপ ভাণ্ডারীরা আক্রমণ শানিয়ে দাবি করেছেন যে, সরকার ফেলে দেওয়ার চক্রান্ত করতেই কিংবা ‘জর্জ সোরোসের কাছ থেকে পাঠ নিতেই’ ভিয়েতনামে গিয়েছেন রাহুল। যদিও বিজেপির এই সমস্ত অভিযোগ ও কটাক্ষ উড়িয়ে দিয়েছে কংগ্রেস। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, একজন স্বাধীন ও সার্বভৌম ভারতীয় নাগরিক হিসেবে রাহুল গান্ধী ব্যক্তিগত প্রয়োজনে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে ভ্রমণ করতেই পারেন।

Related Articles