ফেসবুকে লাইভে মুখ্যমন্ত্রীকে আপত্তিকর মন্তব্য, গোবরডাঙায় গ্রেফতার বিজেপি সমর্থক
ধৃত ব্যক্তি নিজেরই দলীয় সমর্থক? গোবরডাঙার বিজেপি নেতার স্বীকারোক্তিতে তুমুল চাঞ্চল্য!
Truth of Bengal: রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্কের পারদ এখন তুঙ্গে। একদিকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে উদ্দেশ্য করে সোশাল মিডিয়ায় চরম আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেন এক ব্যক্তি, অন্যদিকে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কুরুচিকর ছবি প্রদর্শনের অভিযোগে মারাত্মক আইনি জটিলতায় জড়ালেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। দুটি পৃথক ঘটনায় বর্তমানে সরগরম বঙ্গ রাজনীতির ময়দান।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ফেসবুক লাইভে এসে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে একাধিক অশ্লীল, মানহানিকর এবং উসকানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে পবিত্র সরকার নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে গোবরডাঙা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন গোবরডাঙা মণ্ডল বিজেপির সহ-সভাপতি শুভম মুখোপাধ্যায়। সোশাল মিডিয়ার সেই বিতর্কিত লাইভ ভিডিওর লিঙ্কও তুলে দেওয়া হয় তদন্তকারীদের হাতে। অভিযোগের ভিত্তিতে তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ করে শনিবার অভিযুক্ত পবিত্র সরকারকে গ্রেফতার করে গোবরডাঙা থানার পুলিশ।
তবে এই গ্রেফতারির পরই তৈরি হয়েছে এক নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়ে অভিযোগকারী বিজেপি নেতা শুভম মুখোপাধ্যায় যে মন্তব্য করেছেন, তাতেই আসল মোড় ঘোরে। তিনি দাবি করেন, ধৃত ব্যক্তি দলে কোনও পদে না থাকলেও তাঁকে বিজেপির সমর্থক হিসেবেই তিনি দেখেছেন! শুধু তা-ই নয়, পূর্বেও নাকি তিনি বিজেপি নেতাদের নিয়ে একাধিক আপত্তিকর ভিডিও বানান। ফলে গ্রেফতারির পর নিজ দলের সমর্থকের নাম জড়িয়ে পড়ায় অস্বস্তিতে পড়েছে স্থানীয় নেতৃত্ব।
অন্যদিকে, আরও এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে তিলোত্তমায়। গত শুক্রবার কলকাতায় আয়োজিত একটি ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। অভিযোগ, সেই মঞ্চ থেকেই তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি চরম কুরুচিকর পোস্টার প্রদর্শন করেন। এই ঘটনা জানাজানি হতেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপি মুখপাত্র কেয়া ঘোষের পাশাপাশি সুর চড়ান রাজ্য বিজেপির একাধিক কর্মী-সমর্থক। আন্দোলনের নামে এমন নোংরামির অভিযোগে আনন্দপুর থানায় অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। পাশাপাশি বিধাননগর সাইবার থানাতেও আলাদাভাবে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।
অবশ্য এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিজের স্বপক্ষে সাফাই দিয়েছেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। তাঁর দাবি, চোখে সানগ্লাস পরা থাকায় এবং হাতে থাকা পোস্টারটি আয়তনে অত্যন্ত ছোট হওয়ায় তিনি নাকি বুঝতে পারেননি যে সেখানে আসলে ঠিক কীসের ছবি ছিল! তবে অভিনেত্রীর এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ পদ্ম শিবির। দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এখন রাজ্যজুড়ে জোরালো চর্চা শুরু হয়েছে।






