রাজ্যের খবর

একুশের শহিদদের আর্থিক সাহায্যেও কারচুপি! রিপোর্ট ফাঁস করে মমতাকে তীব্র আক্রমণ শুভেন্দুর

শহিদ পরিবারদের নতুন এফআইআর ও বিপুল আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস! ২১ জুলাইয়ের প্রাক্কালে শুভেন্দুর বড় মাস্টারস্ট্রোক

Truth of Bengal: ঐতিহাসিক ২১ জুলাইয়ের প্রাক্কালে রাজ্যের রাজনীতিতে চরম উত্তাপ ছড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার বিধানসভায় ২১ জুলাইয়ের বহুল চর্চিত তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ্যে এনে তৃণমূল কংগ্রেস ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তিনি। জাস্টিস চ্যাটার্জি কমিশনের সুপারিশ তুলে ধরে শুভেন্দু দাবি করেন, তৎকালীন তৃণমূল সরকার ২১ জুলাইয়ের শহিদ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে ন্যায্য আর্থিক সাহায্য প্রদান করা থেকেও বঞ্চিত করেছিল।

বিধানসভায় দাঁড়িয়ে কমিশনের বয়ান অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “কমিশন স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছিল যে নিহতদের পরিবারকে ২৫ লাখ টাকা এবং আহতদের ৫ লাখ টাকা দিতে হবে। অথচ তৎকালীন তৃণমূল সরকার নিহতদের পরিবারকে মাত্র ২ লাখ এবং আহতদের নামমাত্র ১৫ হাজার টাকা দিয়ে দায় সেরেছে।” তবে বঞ্চনার সেই অধ্যায় শেষ করে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে সমস্ত ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি চাইলে নতুন করে এফআইআর (FIR) দায়ের করতে পারবে এবং বর্তমান সরকার কমিশনের সুপারিশ মেনেই ‘চিফ মিনিস্টার রিলিফ ফান্ড’ (CMRF) থেকে পুরো আর্থিক সাহায্য তাদের হাতে তুলে দেবে।

এই ঘটনার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নাম না করে তীব্র কটাক্ষ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যে শহিদ পরিবারগুলির আবেগকে ব্যবহার করে অনেকে এমপি, এমএলএ কিংবা মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, চার্টার্ড ফ্লাইট ও হেলিকপ্টারে ঘুরে বেড়ালেন, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও আমেরিকায় সম্পত্তি ও চিকিৎসা করালেন, সেইসব সুবিধাভোগীদের থেকে সাধারণ মানুষের দূরত্ব বজায় রাখা উচিত।”

এদিন বিকেলেই বিধানসভায় ফাইল হাতে নিয়ে প্রবেশ করেন শুভেন্দু অধিকারী। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের স্মৃতি টেনে তিনি স্পষ্ট জানান, বহু বছর ধরে প্রকৃত তথ্য পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে গোপন রাখা হয়েছিল। কমিশনের রিপোর্টে বহু অসঙ্গতির কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সেদিনের ঘটনায় বড় আন্দোলনের দাবিদার তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কেন একবারও জিজ্ঞাসাবাদ করা হল না? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেগজড়িত ২১ জুলাইয়ের ঠিক আগের দিন বিধানসভায় এই রিপোর্ট ফাঁস রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্ক তৈরি করল।

Related Articles