নিরামিষ খেয়েও বাঁচে মানুষ, ডিম না খেলে কেউ অপুষ্টিতে ভোগে না: মিড ডে মিল প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী
মিড-ডে মিল থেকে কি চিরতরে বাদ পড়ছে ডিম? ক্ষুব্ধ শিক্ষকদের জবাবে এবার বোমা ফাটালেন দীপক বর্মণ!
Truth of Bengal: ডিম না খেলে বাংলার স্কুলপড়ুয়ারা অপুষ্টিতে ভুগবে, এমন তত্ত্ব বা যুক্তি মানতে একেবারেই নারাজ রাজ্যের নতুন স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “পৃথিবীর বহু মানুষ নিরামিষাশী। তাঁরাও কিন্তু শরীর গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি পান। ডিমই পুষ্টির একমাত্র উৎস নয়।”
সোমবার রাজ্য বিধানসভায় বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। আর সেই বাজেটেই ঘোষণা করা হয়েছে, কলকাতা পুর এলাকার স্কুলগুলিতে এবার থেকে মিড-ডে মিলের রান্নার দায়িত্ব দেওয়া হবে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় সংস্থা ‘ইসকন’-কে। এই ঘোষণা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই শিক্ষামহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ, ইসকনের হাতে দায়িত্ব দেওয়ার অর্থ হল পড়ুয়াদের জোর করে নিরামিষ খাদ্যাভ্যাসে ঠেলে দেওয়া, যা সাধারণ বাঙালি পরিবারের সন্তানদের ক্ষেত্রে একেবারেই পরিচিত নয়। দরিদ্র পরিবারের শিশুরা মূলত প্রোটিনের খোঁজে মিড-ডে মিলের ডিমের ওপর নির্ভর করে থাকে, তা বন্ধ হলে পুষ্টির ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে।
“ডিমের প্রত্যাশায় বসে থাকে শিশুরা”, চিন্তায় প্রধান শিক্ষকরা
কলকাতার এক স্কুলের প্রধান শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, তাঁদের স্কুলে সপ্তাহে অন্তত দু’দিন ডিম দেওয়া হয়। বাকি দিনগুলিতে পনির বা নিরামিষ সবজি থাকলেও ডিমের দিনেই পড়ুয়াদের উপস্থিতি থাকে সবচেয়ে বেশি। শিশুরা ডিমের প্রত্যাশায় বসে থাকে, তাই হুট করে তালিকা বদলে গেলে স্কুলে পড়ুয়া আসার সংখ্যায় টান পড়তে পারে।
পাইলট প্রজেক্ট সফল হলেই পুরো রাজ্যে ইসকন!
বিজেপি সরকার বাংলায় ক্ষমতায় আসার পরই মিড-ডে মিল প্রকল্পের নাম বদলে কেন্দ্রীয় নাম ‘পিএম পোষণ’ (PM Poshan) কার্যকর করেছে। সোমবার এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও স্পষ্ট জানান, “পিএম পোষণ পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে কলকাতার স্কুলগুলিতে চালু হচ্ছে। ইসকনই রান্না করে খাওয়াবে। আগে খেয়ে দেখুন, এর গুণমান অনেক ভাল। আপনার ইচ্ছা না হলে জোর করে ‘হরেকৃষ্ণ’ বলতে হবে না।”
তবে এই বিতর্কের মাঝে আরেকটি বড় প্রশ্ন উঠছে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (SHG) মহিলাদের কর্মসংস্থান নিয়ে। এতদিন প্রতিটি স্কুলে রান্নার দায়িত্বে ছিলেন স্থানীয় মহিলারা। ইসকন সেন্ট্রাল কিচেন থেকে খাবার সরবরাহ করলে এই গরিব মহিলাদের রুজি-রুটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই আশঙ্কার জবাবে শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন জানান, “বাজেটে ইতিমধ্যেই রাঁধুনিদের বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগে প্রজেক্টটি শুরু হোক, তারপর কোনও সমস্যা দেখা দিলে তা আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়া হবে।” কলকাতার এই প্রজেক্ট সফল হলে আগামী দিনে গোটা রাজ্যেই মিড-ডে মিল ইসকনের হাতে তুলে দেওয়ার বড় ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন মন্ত্রী।






