“লাশের রাজনীতি করতে ভালোবাসেন মমতা!” হালিশহর কাণ্ডে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে তোপ মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশুর
মমতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে শুভ্রাংশু বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লাশের রাজনীতি করতে ভালবাসেন।”
Truth of Bengal: হালিশহরে পুলিশ হেফাজতে তৃণমূল কর্মী বিরজু কেওতের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। রবিবার নিহত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়েন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে ঘিরে ‘চোর’, ‘ডাকাতরানি’ স্লোগান ওঠে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও সব বাধা উপেক্ষা করে বিরজুর বাড়িতে পৌঁছন তিনি। তবে সেখানেও মৃতের পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চাননি বলে জানা যায়। এই ঘটনাকে ঘিরে শাসক-বিরোধী তরজা তুঙ্গে উঠতেই এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করলেন মুকুল রায়ের পুত্র শুভ্রাংশু রায়।
মমতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে শুভ্রাংশু বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লাশের রাজনীতি করতে ভালবাসেন।” পাশাপাশি তাঁর দাবি, বিভিন্ন ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে দেখানোর প্রবণতা রয়েছে তৃণমূল নেত্রীর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার অভিযোগ প্রসঙ্গে শুভ্রাংশু বলেন, “এটা বাংলার সংস্কৃতি নয়। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লাশের রাজনীতি করতে ভালবাসেন। সব ঘটনাকে রঙ চড়িয়ে দেখাতে পছন্দ করেন। ওনার কাছে ইট পাথর হয়ে যায়, কাদা ঢিল হয়ে যায়।” এরপর বাবার মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে ক্ষোভ উগরে দেন শুভ্রাংশু। তাঁর বক্তব্য, “আমার বাবা যেদিন মারা যান, সেদিন একবারও কেউ দেখতে আসেননি। বিধানসভাতেও পর্যন্ত যাননি। ওই কয়েকদিনের মধ্যে তিনি একবারও ফোন করেননি। অথচ মুকুল রায় একসময় তাঁর ছায়াসঙ্গী ছিলেন।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন শুভ্রাংশু। তাঁর অভিযোগ, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মুকুল রায়ের দেহ নিয়েও রাজনীতি করে গেলেন। তিনি নিজে এসে আর কাউকে আসতে দেননি। শুভেন্দু অধিকারী থেকে অর্জুন সিং—সবাই এসেছিলেন, আমাকে ফোনও করেছিলেন।” এদিকে সোমবার হালিশহরে গিয়ে নিহত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগের ঘটনায় প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথাও জানান তিনি। হালিশহর থানার আইসিকে ক্লোজ এবং মামলার তদন্তকারী আধিকারিককে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি নিহত বিরজু কেওতের স্ত্রীকে মুখ্যমন্ত্রীর অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে চাকরি দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণাও করেন শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে পুলিশি ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, অন্যদিকে শাসক-বিরোধী রাজনৈতিক তরজা—সব মিলিয়ে বিরজুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হালিশহরের রাজনৈতিক উত্তাপ এখন চরমে।






