কলকাতা

ভবানীপুর ফল চ্যালেঞ্জ মামলায় বড় নির্দেশ হাইকোর্টের, EVM-VVPAT ও CCTV ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ

ভবানীপুর কেন্দ্রের EVM, VVPAT এবং CCTV ফুটেজ সংরক্ষণ করে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে

Truth of Bengal: ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মামলাতেই এবার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল আদালত। ভবানীপুর কেন্দ্রের EVM, VVPAT এবং CCTV ফুটেজ সংরক্ষণ করে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া কোনও তথ্য মুছে ফেলা যাবে না। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে দু’মাস পরে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি লড়াই ছিল শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজার ১১৪ ভোটে পরাজিত হয়েছেন মমতা। এরপর রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটে এবং মুখ্যমন্ত্রী হন শুভেন্দু অধিকারী। পরে তিনি ভবানীপুর আসনটি রেখে নন্দীগ্রাম আসন ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা করেন।

এই ভবানীপুরের ফলাফল নিয়েই আদালতের দ্বারস্থ হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ১৬ জুন কলকাতা হাইকোর্টে ইলেকশন পিটিশন দায়ের করেন তিনি। সেদিন সশরীরে আদালতে উপস্থিত ছিলেন মমতা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দোলা সেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অন্য নেতারা। এর আগে ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজয়ের পরও আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মামলার এখনও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। এবার ভবানীপুরের ফলাফল নিয়েও আইনি লড়াইয়ে নামলেন তিনি। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ভবানীপুর কেন্দ্রের CCTV ফুটেজ, EVM, VVPAT-সহ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনও তথ্য নষ্ট বা মুছে ফেলা যাবে না।

নির্বাচনী তথ্য সংরক্ষণ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। সাধারণত ফলাফল ঘোষণার পর ৪৫ দিন পর্যন্ত CCTV এবং ওয়েবকাস্টিং সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষিত থাকে। VVPAT-এর কাগজে ছাপা স্লিপ সংরক্ষিত থাকে এক বছর পর্যন্ত। তবে ওই সময়ের মধ্যে ভোটের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের হলে এবং আদালত নির্দেশ দিলে, আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সব তথ্য সংরক্ষণ করতে হয়। EVM-এর মেমোরি লগও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সংরক্ষণে রাখার নিয়ম রয়েছে। ২০২৪ সালে পুরনো নিয়মে সংশোধন এনে নতুন বিধি চালু করা হয়। তার আগে তিন মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত বিভিন্ন নির্বাচনী তথ্য সংরক্ষণ রাখার বিধান ছিল। ১৯৬১ সালের কনডাক্ট অফ ইলেকশন রুলস-এ সংশোধন আনা হয় ভোটারদের গোপনীয়তা রক্ষা এবং তথ্যের অপব্যবহার রোখার যুক্তি দেখিয়ে।

Related Articles