কলকাতা

ভেঙে খান-খান তৃণমূল, এরই মাঝে আচমকা বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে হাইকোর্টে অভিষেক

বিদেশে যাওয়া প্রয়োজন বলে আদালতে আবেদন জানিয়েছেন তিনি

Truth of Bengal: তৃণমূলের অন্দরে যখন ভাঙন ও প্রতীক-দখল ঘিরে টানাপোড়েন চরমে, ঠিক সেই সময় বিদেশযাত্রার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। চোখের চিকিৎসার জন্য এক সপ্তাহের জন্য বিদেশে যেতে চান তিনি। সেই কারণেই বিদেশযাত্রার উপর থাকা নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার আবেদন জানানো হয়েছে আদালতে। জানা গিয়েছে, বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এই আবেদন করেছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। চলতি সপ্তাহেই এই মামলার শুনানি হতে পারে বলে খবর। এখন আদালত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয় কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

কয়েক বছর আগে মুর্শিদাবাদে দলীয় কর্মসূচি সেরে ফেরার পথে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়েতে সেই দুর্ঘটনায় তাঁর চোখের নীচে গুরুতর আঘাত লাগে। এরপর থেকেই চোখের সমস্যায় ভুগছেন তিনি। প্রথমে দেশের একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসা করান অভিষেক। পরে বিদেশেও চোখের চিকিৎসার জন্য যেতে হয়েছিল তাঁকে। তবে রাজ্যে পালাবদলের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। একাধিক মামলায় নাম জড়িয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বিধানসভায় সই-কাণ্ড থেকে শুরু করে ভোটপ্রচারে গিয়ে উসকানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগ—বিভিন্ন ইস্যুতে বর্তমানে সিআইডি-র নজরে রয়েছেন তিনি। যদিও কলকাতা হাইকোর্ট থেকে ইতিমধ্যেই রক্ষাকবচ পেয়েছেন অভিষেক। কিন্তু তাঁর বিদেশযাত্রার উপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। সেই কারণেই এবার চিকিৎসার প্রয়োজন দেখিয়ে এক সপ্তাহের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিলের আবেদন জানানো হয়েছে।

এদিকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঘাসফুল শিবিরের বিপর্যয়ের পর থেকেই দল কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট তৃণমূল, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল’ তৃণমূল। দুই শিবিরের মধ্যে দলের প্রতীক ও সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শুরু হয়েছে দড়ি টানাটানি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে বিধানসভায় নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি তুলে ইতিমধ্যেই ‘আসল’ বিরোধী দলের তকমা ছিনিয়ে নিয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। সোমবার নিউটাউনের একটি পাঁচতারা হোটেলে তাঁদের বিশেষ অধিবেশন হয়। সেখানে নতুন জাতীয় কর্মসমিতি ঘোষণা করা হয়। সেই কমিটিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও জায়গা রাখা হয়নি। দলের চেয়ারপার্সন করা হয়েছে অরূপ রায়কে।

Related Articles