অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বড় স্বস্তি! ১৬টি মামলায় অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ বহাল রাখল কলকাতা হাইকোর্ট
আপাতত অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ
Truth of Bengal: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ বহাল রাখল কলকাতা হাই কোর্ট। বিধানসভা নির্বাচনের পর তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ১৬টি এফআইআর ঘিরে মামলায় মঙ্গলবার আদালত জানিয়ে দিল, আপাতত অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। তবে তদন্ত চালিয়ে যেতে কোনও বাধা নেই। মামলার পরবর্তী শুনানি ২৫ অগস্ট।এ দিন অভিষেকের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন এবং অয়ন ভট্টাচার্য। শুনানির শুরুতেই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য রাজ্যের কাছে জানতে চান, গত ৪ মে-র আগে অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর দায়ের হয়েছিল কি না। আদালতের প্রশ্নের উত্তরে রাজ্যের তরফে জানানো হয়, ওই তারিখের আগে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও মামলা ছিল না। এরপর বিচারপতি স্পষ্ট করেন, এই মুহূর্তে অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া কোনও এফআইআর খারিজ করছে না আদালত। পুলিশ তদন্ত চালাতে পারবে এবং সেই তদন্তে অভিষেককেও সহযোগিতা করতে হবে। তবে তদন্তের নামে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।
বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, এর আগেই অভিষেককে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান পর্যায়ে সেই সুরক্ষা তুলে নেওয়া হলে আগের নির্দেশের কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন উঠবে। তাই তদন্ত চললেও আপাতত রক্ষাকবচ বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেয় আদালত। রাজ্যের তরফে অবশ্য এই সুরক্ষার বিরোধিতা করা হয়। আদালতে বলা হয়, অভিষেকের আবেদন খারিজ করা উচিত এবং তাঁকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। এর উত্তরে বিচারপতি বলেন, যদি কোনও অপরাধের অভিযোগ থাকে, পুলিশ অবশ্যই তদন্ত করবে। আদালত তদন্তে কোনও বাধা দিচ্ছে না। তবে অভিযুক্ত তদন্তে সহযোগিতা করলে এবং আদালত সেই সহযোগিতা নিশ্চিত করলে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজন কোথায়, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। শুনানিতে এফআইআরগুলির উৎস এবং দায়ের হওয়ার সময় নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত। বিচারপতি জানতে চান, অভিযোগকারী কি সেই ব্যক্তি, যিনি অভিষেকের বিরুদ্ধে দু’বার নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন? তাঁর মতে, এফআইআর দায়েরের নেপথ্যের পরিস্থিতি এবং সময়কালও বিচার করা প্রয়োজন।
প্রসঙ্গত, অভিষেকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করেছেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি। তিনি ২০১৪ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।অভিযোগকারীর আইনজীবী জয়ন্তনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় আদালতে দাবি করেন, ভোটের আগে অভিষেক অত্যন্ত প্রভাবশালী ছিলেন, ফলে তখন তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা সহজ ছিল না। এখনও তাঁর প্রভাব রয়েছে এবং মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ আসছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিচারপতি পালটা প্রশ্ন তোলেন, অভিষেক যদি এখনও এতটাই প্রভাবশালী হন, তা হলে তাঁর আমতলার দলীয় দফতরে ভাঙার কাজ কী ভাবে হল? সেই ঘটনায় ছুটির দিনেও আদালতকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এর জবাবে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র জানান, যে ভবনটি ভাঙা হয়েছে, সেটি অভিষেকের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় এবং আদালতকে সেই তথ্য আগেই জানানো হয়েছে। তখন বিচারপতি আরও প্রশ্ন করেন, এই ভাঙার কাজ কি আগে করা সম্ভব ছিল না?






