রাজ্যের খবর

বিপ্লবী ক্ষুদিরামের জন্মভিটেতেই তুমুল হাঙ্গামা! শিউলি সাহাকে দেখেই ক্ষোভে ফেটে পড়ল জনতা

‘গো ব্যাক’ স্লোগানে উত্তাল মোহবনী! মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছানোর আগেই শিউলি সাহাকে ঘিরে চরম বিক্ষোভ

Truth of Bengal: বিপ্লবী স্বাধীনতা সংগ্রামী ক্ষুদিরাম বসুর মৃত্যুদিবসে তাঁর ঐতিহাসিক জন্মভিটে মোহবনিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে নজিরবিহীন জনরোষ ও মারাত্মক বিক্ষোভের মুখে পড়লেন কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহা। মঙ্গলবার পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুর ব্লকের অন্তর্গত মোহবনী গ্রামে আয়োজিত একটি স্মরণসভায় পৌঁছাতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ তাঁকে লক্ষ্য করে তীব্র ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। ক্ষুব্ধ জনতার তাড়া ও স্লোগানের মাঝে পড়ে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ অন্যান্য বিশিষ্টদের জন্য সুসজ্জিত মঞ্চ বাঁধা থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত সেই মঞ্চে ওঠার সাহস পাননি বিধায়ক।

মঙ্গলবার সকালে বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবসে শ্রদ্ধা জানাতে কেশপুরের মোহবনিতে স্থানীয় ও বহিরাগত মানুষজনের ব্যাপক সমাগম হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পূর্বেই সেখানে উপস্থিত হন বিরোধী শিবিরের তৃণমূল বিধায়ক শিউলি সাহা। কিন্তু তিনি গাড়ি থেকে নেমে এগিয়ে আসতেই দর্শকাসন ও আশেপাশের ভিড় থেকে একের পর এক মানুষ প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রের মতো উত্তপ্ত রূপ নেয় এবং চারদিক থেকে ‘শিউলি সাহা গো ব্যাক’ ধ্বনি উঠতে শুরু করে।

বিক্ষোভকারীদের মধ্য থেকে স্থানীয় এক মহিলা ক্ষোভে ফেটে পড়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। আবেগঘন কণ্ঠে চিৎকার করে তিনি বলেন, ‘‘আমি উৎপল পাঁজার মা বলছি। এই শিউলি সাহা হটাও! উনি আমাদের ওপর প্রচুর অত্যাচার করেছেন, অনেক গালমন্দ করেছেন ও মারধর করেছেন। লোক লাগিয়ে আমার স্বামীকে পিটিয়ে চিরতরে পঙ্গু করে রেখে দিয়েছেন।’’

এখানেই শেষ নয়, উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, গত ১০ বছর ধরে কেশপুরের বিধায়ক পদে নির্বাচিত থাকা সত্ত্বেও শিউলি সাহা এলাকার উন্নয়নে কোনও অর্থবহ ভূমিকা পালন করেননি। বিশেষ করে স্বাধীনতা সংগ্রামী ক্ষুদিরাম বসুর এই স্মারকস্থল ও জন্মভিটের সংরক্ষণের জন্য সরকারের তরফ থেকে কোনও রকম উদ্যোগী পদক্ষেপও নেননি তিনি। উল্লেখ্য, গত জুন মাসে কোলাঘাটে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকাল নিয়ে প্রকাশ্যে সরব হয়ে বিতর্ক উস্কে দিয়েছিলেন শিউলি।

মঙ্গলবার মোহবনীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এসে পৌঁছানো পর্যন্ত তিনি অনুষ্ঠানস্থলের একপাশে চুপচাপ দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করলেও, পরবর্তীতে চরম বিড়ম্বনার মুখে পড়ে এলাকা ছেড়ে বেরিয়ে যান। যদিও এই নজিরবিহীন বিক্ষোভ ও মারাত্মক অভিযোগ প্রসঙ্গে বিধায়ক শিউলি সাহার কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Related Articles