বাংলাদেশি নম্বর থেকে লাগাতার খুনের হুমকি! ভবানীভবনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রথম দিকে বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি তিনি
Truth of Bengal: হোয়াটসঅ্যাপে একের পর এক খুনের হুমকি। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার ভবানীভবনের দ্বারস্থ হলেন ‘আসল তৃণমূল’-এর বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বাংলাদেশের নম্বর থেকে লাগাতার হুমকি দেওয়া হচ্ছে তাঁকে। এমনকি মুক্তমনা ব্লগার অভিজিৎ রায়ের মতো পরিণতির হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি। জানা গিয়েছে, গত ৩ মে থেকে ৯ অগাস্টের মধ্যে একাধিকবার ঋতব্রতের কাছে হুমকি ফোন আসে। প্রতিবারই হোয়াটসঅ্যাপ কল করা হয় বাংলাদেশের নম্বর থেকে। প্রথম দিকে বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি তিনি। কিন্তু হুমকির পরিমাণ বাড়তে থাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনতে ভবানীভবনে যান ঋতব্রত। কারা এই হুমকির নেপথ্যে রয়েছে, তা খুঁজে বের করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
ঋতব্রতের দাবি, ফোনে তাঁকে বলা হয়েছে বাংলাদেশের মুক্তমনা ব্লগার অভিজিৎ রায়ের মতো পরিণতি হবে তাঁরও। ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় অমর একুশে বইমেলা থেকে ফেরার পথে অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে খুন করা হয়েছিল। সেই হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা। পরবর্তীতে ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্যদের যোগ সামনে আসে। সম্প্রতি কলকাতায় এসে লেখিকা তসলিমা নাসরিনও অভিজিৎ রায়ের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। সেই আবহে ঋতব্রতকে দেওয়া হুমকির ভাষা ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। তবে এই হুমকির সঙ্গে কোনও জঙ্গি সংগঠনের যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তেই সেই বিষয়টি পরিষ্কার হতে পারে।
এরই মধ্যে রাজ্যে জঙ্গি তৎপরতা ঘিরে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সম্প্রতি বাংলা থেকে জইশ-ই-মহম্মদের সদস্য সন্দেহে হামিম মণ্ডল এবং তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের সূত্রে দাবি, তাদের নজরে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বিভিন্ন কর্মসূচি, যাতায়াতের পথ এবং কলকাতার বাড়ি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ। তদন্তে পাকিস্তান থেকে নির্দেশ আসার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই এবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধারাবাহিক খুনের হুমকির অভিযোগ সামনে আসায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বাংলাদেশের নম্বরগুলি কার, কোথা থেকে ফোন করা হয়েছিল এবং এর পিছনে কোনও সংগঠিত চক্র রয়েছে কি না—সব দিকই খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।






