রাজ্যের খবর

ঠিক কী কারণে গ্রেফতার শওকত মোল্লা? দিল্লির সদর দফতর থেকে লিখিত বিবৃতি দিয়ে খোলসা করল NIA

কেন্দ্রীয় সংস্থার পক্ষ থেকে শওকতকে এই মামলার মূল সন্দেহভাজন এবং দীর্ঘদিন ধরে পলাতক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে

Truth of Bengal: ভাঙড়ের দক্ষিণ বামুনিয়া এলাকায় ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণ এবং তার পরবর্তী তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টার নেপথ্যে মূল ষড়যন্ত্রকারী ছিলেন ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা। শনিবার দিল্লির সদর দফতর থেকে প্রকাশিত এক লিখিত বিবৃতিতে প্রাক্তন বিধায়কের গ্রেপ্তারের সুনির্দিষ্ট কারণ স্পষ্ট করে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ। কেন্দ্রীয় সংস্থার পক্ষ থেকে শওকতকে এই মামলার মূল সন্দেহভাজন এবং দীর্ঘদিন ধরে পলাতক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এনআইএর দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতি অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক দিন কয়েক আগে ভাঙড়ের ওই এলাকায় বেআইনিভাবে দেশি বোমা তৈরির সময় একটি মারাত্মক বিস্ফোরণ ঘটেছিল। সেই ঘটনায় বোমা প্রস্তুতকারীদের মধ্যে একজনের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় এবং আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর জখম হন। ঘটনার পর জখম ও নিহতের দেহ একটি স্করপিও গাড়িতে করে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগে এর আগে আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছিলেন তদন্তকারীরা। মূলত সেই ধৃতের কাছ থেকে পাওয়া সূত্র এবং দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর শুক্রবার সোনারপুরের কামালগাজি লাগোয়া এলাকা থেকে মোটরবাইক আরোহী শওকতকে জালে তোলে এনআইএ। বিপদ বুঝে এই তৃণমূল নেতা সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলেও তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে।

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের দাবি, ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলায় শওকত মোল্লা হলেন গ্রেপ্তার হওয়া চতুর্থ অভিযুক্ত। তদন্তে নেমে এনআইএ জানতে পেরেছে, শওকতই ছিলেন এই গোটা ঘটনার মূল নিয়ন্ত্রক বা মাস্টারমাইন্ড। তাঁর নির্দেশেই অন্যান্য অভিযুক্তরা ওই এলাকায় বসে দেশি বোমা তৈরি করছিল। শুধু তাই নয়, বিস্ফোরণ ঘটে যাওয়ার পর বেগতিক দেখে অপরাধের অকাট্য তথ্যপ্রমাণ ও আলামত যাতে দ্রুত নষ্ট করে দেওয়া হয়, সেই সংক্রান্ত নির্দেশও শওকত নিজেই অন্য অভিযুক্তদের দিয়েছিলেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে এনআইএ।

উলেখ্য, নির্বাচনের মুখে ভাঙড়ের এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক তোলপাড় শুরু হয়েছিল। সেই সময় আইএসএফ চেয়ারম্যান তথা ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা রাঘববোয়ালদের আড়াল করার অভিযোগ তুলে এনআইএ তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সরাসরি নির্দেশে রাজ্য পুলিশের কাছ থেকে এই স্পর্শকাতর মামলার তদন্তভার নিজেদের হাতে তুলে নেয় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা।

Related Articles