কলকাতা

বাংলার জন্য বুলেট ট্রেনের পরিকল্পনা, জানিয়ে দিলেন রেলমন্ত্রী

তবে নতুন পরিস্থিতিতে সেই বাধা কাটিয়ে কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Truth of Bengal: বাংলার রেল পরিকাঠামো উন্নয়নে একাধিক বড় ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী। তিনি জানান, ভবিষ্যতে দিল্লি, লখনউ ও বারাণসী হয়ে শিলিগুড়িকে সংযুক্ত করার লক্ষ্যে বুলেট ট্রেন প্রকল্পের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে শিলিগুড়ি থেকে দিল্লি পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে দাবি তাঁর। শনিবার নবান্ন সভা ঘরে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রেলমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রকল্প প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতায় আটকে ছিল।

তবে নতুন পরিস্থিতিতে সেই বাধা কাটিয়ে কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি। উপস্থিত রেল আধিকারিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজ্যে কত কাজ বাকি রয়েছে তা এখন দৃশ্যমান হবে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

রেলমন্ত্রী দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বাংলার রেল উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে বাংলার রেল প্রকল্পগুলির জন্য প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পূর্বতন সরকারের অনুমতির অভাবে বহু প্রকল্প দীর্ঘদিন বাস্তবায়িত হতে পারেনি।

তিনি অভিযোগ করেন, কিছু গুরুত্বপূর্ণ রেল ও মেট্রো প্রকল্প আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছিল। কলকাতা মেট্রোর বিভিন্ন সম্প্রসারণ প্রকল্প নিয়েও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। রেলমন্ত্রীর কথায়, “কলকাতার মানুষ যাতে মেট্রোর পূর্ণ সুবিধা না পান, সেই কারণে বহু ক্ষেত্রে উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি হয়েছিল। সংসদেও আমি বলেছি, তৃণমূল উন্নয়ন আটকে দিতে চাইত।”

অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের অগ্রগতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, রাজ্যের জন্য নির্ধারিত ১০২টি স্টেশনের মধ্যে ইতিমধ্যেই ১০টির কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। পাশাপাশি দেশের প্রথম দিকের বন্দে ভারত এক্সপ্রেস পরিষেবাও পশ্চিমবঙ্গ থেকেই চালু করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।মেট্রো রেলের উন্নয়ন নিয়েও পরিসংখ্যান তুলে ধরেন রেলমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ২০১৪ সালের আগে ৪২ বছরে কলকাতা মেট্রোর বিস্তার হয়েছিল মাত্র ২৮ কিলোমিটার। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমলে মেট্রো সম্প্রসারণের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নতুন রুট ও করিডরের কাজ দ্রুত এগিয়েছে।কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, রেল, মেট্রো ও উচ্চগতির ট্রেন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আগামী কয়েক বছরে বাংলার যোগাযোগ ব্যবস্থা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং রাজ্যের অর্থনৈতিক বিকাশেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

Related Articles