রাজ্যের খবর

“৪ মে-র পর কেউ বাঁচবে না!”, বাংলায় এসে কাদের আত্মসমর্পণের ‘ডেডলাইন’ দিলেন মোদি?

“রাষ্ট্রপতিকে অপমান করা জনজাতি মহিলারা ভুলবে না!”, তৃণমূলকে ‘বড় সাজা’ দিতে বাংলার বোনদের আরজি মোদির।

Truth of Bengal: বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের তপ্ত দুপুরে মেজাজ হারালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রচারের ময়দান থেকে সরাসরি তৃণমূলের ‘সিন্ডিকেট’ বাহিনীকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে মোদী জানিয়ে দিলেন, ভোট মিটলে গুন্ডাদের আর রক্ষে নেই। রবিবার বিষ্ণুপুরের জনসভা থেকে রাজ্যের শাসকদলকে কার্যত উচ্ছেদের ডাক দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বললেন, “বাংলার জনতাই আসল বাঘ। এই বাঘ ফুঁসছে, আর সহ্য করবে না। নির্মম সরকারকে হঠাতে জনতা বদ্ধপরিকর। এবার বদল চাই।”

তৃণমূলের দাপুটে নেতাদের ‘হুমকির’ ভাষা নিয়ে মোদী কটাক্ষের সুরে বলেন, কলকাতার বড় নেতাদের কথাতেই এখন ভয়ের ছাপ স্পষ্ট। মোদীর কথায়, “তৃণমূলের ভয়ের দিন শেষ হচ্ছে, বিজেপির ভরসার শাসন আসছে। ৪ মে যে ফল হবে, তার ঝলক তৃণমূল নেতাদের কান্নাকাটিতেই ফুটে উঠছে। যারা ভয় দেখাত, তারা এখন নিজেরাই ভীত।” এদিন বিষ্ণুপুরের মাফিয়া ও কয়লা পাচারকারীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হুঁশিয়ারি, “কান খুলে শুনে নিন, এসব আর চলবে না। সব গুন্ডাদের বলছি, ২৩ বা ২৯ এপ্রিলের আগে থানায় আত্মসমর্পণ করুন, কারণ ৪ মের পরে কেউ বাঁচবে না।”

বিষ্ণুপুরের জলকষ্ট নিয়ে সরব হয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেন, রাজ্যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার গড়লে ঘরে ঘরে পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছবে। তৃণমূল সিন্ডিকেটকে কাঠগড়ায় তুলে তিনি বলেন, বিহারে এনডিএ সরকার কাজ করে দেখিয়েছে, কিন্তু এখানে পাইপ আর জল লুট হচ্ছে। পাশাপাশি, দ্রৌপদী মুর্মুকে রাষ্ট্রপতি করার সময় তৃণমূলের বিরোধিতা নিয়ে জনজাতি আবেগে শান দেন তিনি। মোদী বলেন, “বাংলায় যখন রাষ্ট্রপতি এলেন, তৃণমূল তাঁকে অপমান করেছে। জনজাতি মা-বোনদের যারা ঘৃণা করে, তাদের সাজা দিতে হবে।”

সবশেষে, সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ না হওয়া নিয়ে কংগ্রেস ও তৃণমূলকে একযোগে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, মহিলারা ‘জঙ্গলরাজকে’ চ্যালেঞ্জ করছে বলেই তৃণমূল চায় না তারা বিধায়ক বা সাংসদ হোক। কুড়মি আন্দোলন থেকে শুরু করে ওবিসি সংরক্ষণ, প্রতি ক্ষেত্রেই তৃণমূল সংবিধান বিরোধী কাজ করছে বলে আক্রমণ শানান তিনি। সব মিলিয়ে, প্রচারের শেষ লগ্নে বিষ্ণুপুর থেকে তৃণমূলের ‘গলা টিপে ধরা’র বার্তাই দিয়ে গেলেন মোদী।

Related Articles