আজকের মধ্যে সমস্ত শুনানি নোটিশ ইস্যু করতে হবে, নির্দেশ নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের
রাজ্যের আইনশৃংখলা রক্ষার বিষয়ে রাজ্যের এই প্রথম সারির আইপিএস দের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে নবান্ন
Truth of Bengal: আইএএস-দের পর এবার আইপিএস-দের পালা। কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে যে ১০ জন আইপিএস এর তালিকা নবান্নকে পাঠিয়েছিল কমিশন তাদের মধ্যে ৮ জনের অব্যাহতি চেয়ে নতুন ৮ জন আইপিএসের নাম পাঠাল কমিশনে। হাওড়া ও আসানসোলের পুলিশ কমিশনার সহ ১০ জন প্রথম সারির আইপিএস কে নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকের তালিকাভুক্ত করায় বিপত্তিতে রাজ্য সরকার। রাজ্যের আইনশৃংখলা রক্ষার বিষয়ে রাজ্যের এই প্রথম সারির আইপিএস দের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে নবান্ন। ফলে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকের তালিকা থেকে প্রথম সারির ৮ জন আইপিএস কে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদনে নির্বাচন কমিশনকে শুক্রবার চিঠি দিল নবান্ন। পরিবর্তে নতুন ৮ আধিকারিকের নামও কমিশনকে পাঠানো হয়েছে নবান্নর তরফ থেকে। যে ৮ আইপিএস আধিকারিককে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে রাজ্য সরকার তাঁরা হলেন ভরত লাল মিনা, রাজেশ কুমার যাদব, প্রবীণ ত্রিপাঠি, হৃষিকেশ মিনা, অখিলেশ চতুর্বেদী, সুনীল চৌধুরী, অনুপ জয়সওয়াল, সুধীর কুমার নীলকন্ঠম।
পক্ষান্তরে, নতুন যে ৮ আইপিএসের নাম রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়েছে তাঁরা হলেন কুণাল আগরওয়াল, সুনীল কুমার যাদব, সুরেশ কুমার চদিভে, অজিত সিং যাদব, অর্ণব ঘোষ, উৎপল কুমার নস্কর, কঙ্কর প্রসাদ বারুই এবং উজ্জ্বল কুমার ভৌমিক। যদিও রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল এর কাছে দুজন আইপিএস অফিসার ভরত লাল মিনা এবং হৃষিকেশ মিনা সরাসরি কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে অব্যাহতি চেয়ে বৃহষ্পতিবারই আবেদন জানিয়েছেন এবং এব্যাপারে সিইও-র হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। জানা গেছে, দুজনেরই মেডিকেল ইমারজেন্সির কারণে গতকালই সিইও সেই আবেদন কমিশনে পাঠিয়ে দিয়েছেন। জানা গেছে, ভরতলাল মিনার স্ত্রী লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত, অন্যদিকে ঋষিকেশ মিনার কয়েকদিন আগেই বড় অপারেশন হয়েছে।পাশাপাশি শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে এটা করলে বৈঠক হয়। সিইও মনোজ কুমার আগরওয়ালের সঙ্গে বৈঠকে স্পেশাল রোল অবজারভার সুব্রত গুপ্ত হাজির ছিলেন। এছাড়া অন্যান্য পর্যবেক্ষকরা ও বৈঠকে ছিলেন। উত্তর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা শাসকের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে বৈঠকে। কোন ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। বৈঠকে নির্দেশ দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পর বড় নির্দেশ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের।
এসআইআর সংক্রান্ত প্রক্রিয়া দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করতে রাজ্যের প্রতিটি জেলার জেলাশাসক তথা ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসারদের উদ্দেশে সাত দফা কড়া নির্দেশ জারি করা হয়েছে।নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনেই আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সমস্ত নোটিশ, শুনানি ও ডকুমেন্ট আপলোডের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।সাত দফা নির্দেশ কী কী? তার মধ্যে আজ বিকেল ৫টার মধ্যেই সমস্ত নোটিশ ইস্যু করতে হবে।আগামী ১লা ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে সব নোটিশ সার্ভ নিশ্চিত করতে হবে। সমস্ত শুনানি প্রক্রিয়া ডকুমেন্ট আপলোড সহ আগামী সাত দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে।যেসব ক্ষেত্রে শুনানি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে, সেই সমস্ত উপস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্ট ২রা ফেব্রুয়ারির মধ্যেই আপলোড করতে হবে।আগামী দু’ থেকে তিন দিন সমস্ত শুনানি কেন্দ্র থেকে মাইক্রো অবজারভারদের তুলে নেওয়া হচ্ছে। তাঁরা রোল অবজারভারদের সঙ্গে মিলে স্ক্রুটিনির কাজে সহযোগিতা করবেন।প্রতিটি জেলার জেলাশাসককে নিশ্চিত করতে হবে, যাতে AERO ও ERO-রা কমিশনের নিয়ম মেনে সমস্ত শুনানি প্রক্রিয়া নিষ্পত্তি করেন।ডকুমেন্ট আপলোডের সময় ভুল বা অসঙ্গত ডকুমেন্ট ধরা পড়লে, তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব থাকবে সংশ্লিষ্ট ERO ও AERO-র উপর। এই ভুলগুলি রোল অবজারভার ও স্পেশাল রোল অবজারভারদের নমুনা সমীক্ষায় ধরা পড়ছে বলে নির্দেশে উল্লেখ। এছাড়া জেলাভিত্তিক রোলে অবজারভার নিয়োগ করল নির্বাচন কমিশন।






