রাজ্যের খবর

Duars: এক হাতে বই, অন্য হাতে টোটোর স্টিয়ারিং! বাবাকে হারিয়ে অদম্য লড়াই ডুয়ার্সের কলেজ পড়ুয়া তৃষার

ভোরের আলো ফোটার আগেই জলপাইগুড়ি জেলার ডুয়ার্সের বড়দিঘী চা বাগানের কাঁচা রাস্তায় টোটো নিয়ে বেড়িয়ে পড়ে তৃষা টোপ্পো।

Truth of Bengal: ডুয়ার্সের চা বলয়ের কলেজ পড়ুয়া তৃষা বাবাকে হারিয়ে কাঁধে তুলে নিয়েছে সংসারের দায়িত্ব। আর সংসারের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি টোটো চালিয়ে উপার্জন করে সে। সেই উপার্জন দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি এক ভাই- দুই বোনের পড়াশোনার দায়িত্ব রয়েছে। এত কঠিন জীবন সংগ্রামের মধ্য দিয়েও স্বপ্ন দেখে তৃষা। তার স্বপ্ন এবং ইচ্ছে সে একদিন সরকারি চাকরি করবে। ভোরের আলো ফোটার আগেই জলপাইগুড়ি জেলার ডুয়ার্সের বড়দিঘী চা বাগানের কাঁচা রাস্তায় টোটো নিয়ে বেড়িয়ে পড়ে তৃষা টোপ্পো। এরপর সময়করে মালবাজার পরিমল মিত্র কলেজে গিয়ে ক্লাসও করে তৃষা। কারণ সে যে এই কলেজেই প্রথম বর্ষের ছাত্রী।

জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে মৃত্যু হয় তৃষার বাবার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যের মৃত্যুতে কাউকে তো হাল ধরতেই হবে। কিন্তু বর্তমানে বাড়ির একমাত্র পুরুষ সদস্য অনেকটাই ছোটো। তাই সংসারের হাল ধরে কলেজ পড়ুয়া তৃষা। বাবার টোটোকেই সে তার উপার্জনের জন্য বেছে নেয়। বর্তমানে সেই টোটো চালিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি নিজের ও ভাই বোনের পড়াশোনাও চলছে। তার এই কঠিন লড়াইকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন অনেকেই। টোটো চালানোর পাশাপাশি ব্লগ ভিডিও বানায় তৃষা। বর্তমানে ফেসবুকে তার ফলোয়ার্স চল্লিশ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বীরেন মাহালি বলেন,” বাবাকে হারিয়ে সংসারের দায়িত্ব তুলে নিয়েছে তৃষা। নিজের ভাই- বোনের পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারে যাবতীয় দায়িত্ব এখন তার। সেইসাথে কলেজে পড়াশোনা ও ব্লগ ভিডিও বানায় তৃষা। চা বলয়ের মেয়ের ব্লগ ভিডিও আমরাও দেখি।” এদিকে তৃষা টোপ্পো বলে,” বাবাকে হারানোর পর থেকেই টোটো চালাই। কেননা সংসারের দায়িত্ব তো কাউকে নিতে হবে, আর আমি বড়। এই মুহূর্তে টোটো চালিয়ে সংসার চলছে পাশাপাশি ব্লগ ভিডিও বানাই। এক বোন অষ্টম শ্রেণি এবং আর এক বন্ধু দশম শ্রেণীতে পড়ে। ভাইকে সদ্য স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিয়েছি।”

Related Articles