১৫০ নয়, আপাতত ৫০ আসনে মামলার প্রস্তুতি মমতার! নেত্রীর জেদের সামনে কাঁটা হতাশ পরাজিত প্রার্থীরাই
নেত্রী চাইছেন মামলা, কিন্তু পরাজিত প্রার্থীরাই বেঁকে বসলেন! ভোটের ফল নিয়ে তৃণমূলে চরম গৃহযুদ্ধ?
Truth of Bengal: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন যে, অন্তত ১৫০টি আসনে কারচুপি ও ভোট লুট করেছে বিজেপি। কিন্তু বাস্তব মাঠে নেমে সেই দাবির পারদ অনেকটাই নামাতে বাধ্য হচ্ছে ঘাসফুল শিবির। নবান্নের অলিন্দে এখন বিজেপির সরকার, আর এই আবহে মাত্র ৫০টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট লুটের ‘কাগুজে তথ্য’ জোগাড় করে আদালতের দরজায় কড়া নাড়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে তৃণমূল। তবে এই আইনি লড়াইয়ের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন খোদ দলের পরাজিত প্রার্থীরাই। পরাজয়ের চরম গ্লানি ও তীব্র হতাশায় ডুবে থাকা এই প্রার্থীরা নতুন করে আইনি জাঁতাকলে জড়াতে চাইছেন না। তাঁদের স্পষ্ট কথা, বিজেপি যেখানে সরকার গড়ে ফেলেছে, সেখানে মামলা জিতে একটা আসন পেলেও তো আর তৃণমূল ক্ষমতায় ফিরবে না!
২০ জুনের ডেডলাইন, ইভিএম ও সিসিটিভি ফুটেজই মূল অস্ত্র
আইনি নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের ৪টি সপ্তাহের মধ্যে বা নির্দিষ্ট করে বললে ফলাফল বেরোনোর ৪৫ দিনের মধ্যে ইলেকশন পিটিশন (Election Petition) দায়ের করতে হয়। ৪ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর এই রাজ্যে সেই আইনি সময়সীমা শেষ হচ্ছে আগামী ২০ জুনের মধ্যে। বর্তমানে আদালতে গ্রীষ্মকালীন ছুটি চলায় জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে আদালত খোলামাত্রই এই মামলা রুজু করতে চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
দলীয় সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই ৬০টির কাছাকাছি কেন্দ্রের তথ্য হাতে এলেও প্রার্থীদের আপত্তিতে কাজ থমকে রয়েছে। তবু শীর্ষ নেতৃত্ব চাপ দিয়ে ২০ জুনের মধ্যে অন্তত ১০টি হাইপ্রোফাইল মামলা ঠুকে দিতে অনড়। এই আইনি লড়াইয়ের মূল অস্ত্র হতে চলেছে ভোট গণনার দিনের প্রত্যক্ষ প্রমাণ ও সিসিটিভি ফুটেজ। তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদারের দাবি, “বহু জায়গায় সারাদিন ভোটগ্রহণের পরেও ইভিএমে (EVM) ৯০ শতাংশ চার্জ কীভাবে থাকল, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে। এ ছাড়া সিসিটিভি ফুটেজে আমাদের কাউন্টিং এজেন্টদের ওপর বিজেপি কর্মীদের অত্যাচারের যে ছবি ধরা পড়েছে, তা আমরা আদালতের সামনে তুলে ধরব।”
কাঠগড়ায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)
তৃণমূলের মামলার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হতে চলেছে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া। দলের ক্ষুব্ধ নেতাদের দাবি, যেখানে কোনও বিজেপি প্রার্থী ১০ বা ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন, দেখা গিয়েছে সেই সব কেন্দ্রে এসআইআর-এর ‘ডিলিশন’ বা নাম বাদ দেওয়ার পর্বে ঠিক তত হাজার তৃণমূলপন্থী ভোটারের নাম তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছিল। পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেও বহু ভোটার ভোট দিতে পারেননি। এই প্রাতিষ্ঠানিক কারচুপির বিরুদ্ধেই এবার আদালতে জোরদার সওয়াল করতে চলেছে দেশের প্রধান বিরোধী দল। ভগ্ন মানসিকতার মাঝে দাঁড়িয়ে এই আইনি লড়াইয়ে যদি একটি আসনেও জয় আসে, তবে তা নৈতিকভাবে বিজেপির জয়কে কালিমালিপ্ত করবে এবং দলের কর্মীদের মনে নতুন আলোর সঞ্চার করবে বলে আশাবাদী মমতার অনুগামীরা।






