হেরে মাঠেই মেজাজ হারালেন বেলিংহ্যাম! আর্জেন্টিনার ফুটবলারের ঘাড়ে সপাটে চড়, চরম ধস্তাধস্তি দুই দলের
জাতীয় সংগীতের অবমাননা থেকে প্রকাশ্য মারামারি! ইংরেজদের অবিশ্বাস্য হারের পর পুলিশের জালে দুই দেশের বহু সমর্থক!
Truth of Bengal: মাঠের লড়াইয়ের উত্তাপ যে ম্যাচ শেষেই জুড়িয়ে যাবে, আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ডের হাইভোল্টেজ দ্বৈরথে তা ভাবাটাই ভুল। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা রাজনৈতিক ও ফুটবলীয় রেষারেষির রক্তাক্ত ইতিহাস বুধবার রাতে আবারও ফিরে এল খেলার মাঠে ও গ্যালারিতে। ৮৪ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের ঝড়ে আর্জেন্টিনার কাছে ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে ইংরেজদের। আর এই চরম হার কিছুতেই মেনে নিতে পারলেন না ইংরেজ তারকারা। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজতেই মাঠের মধ্যেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফুটবলারদের ওপর চড়াও হলেন জুড বেলিংহ্যাম ও মর্গ্যান রজার্স। মাঠের সেই হিংসার আগুন মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ল গ্যালারি থেকে শুরু করে আমেরিকা ও ইংল্যান্ডের একাধিক শহরের রাস্তায়।
বার্কোর ঘাড়ে চড় বেলিংহ্যামের, লাউতারোকে ধাক্কা রজার্সের!
ম্যাচ শেষ হতেই আর্জেন্টিনার ফুটবলারেরা যখন মাঠের মধ্যে উল্লাসে মেতে ওঠেন, তখনই চরম মেজাজ হারান ২৫ বছর বয়সী ইংরেজ তারকা জুড বেলিংহ্যাম। ম্যাচ চলাকালীনই লিওনেল মেসির সঙ্গে বিবাদে জড়িয়েছিলেন তিনি। খেলা শেষ হতেই আচমকা পিছন থেকে এসে আর্জেন্টিনার তরুণ ডিফেন্ডার ভ্যালেন্টিন বার্কোর ঘাড়ের কাছে সজোরে চড় মারেন বেলিংহ্যাম! এই কাণ্ড দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বার্কোর সতীর্থরা। মাঠের মধ্যেই শুরু হয়ে যায় চরম ধস্তাধস্তি।
🚨 Jude Bellingham attacks Colo Barco for no reason. pic.twitter.com/hHRedke0kc
— All About Argentina 🛎🇦🇷 (@AlbicelesteTalk) July 15, 2026
এখানেই শেষ নয়, একই রকম রণং দেহি মেজাজে দেখা যায় মর্গ্যান রজার্সকেও। নীল-সাদা জার্সিধারীদের উদযাপন সহ্য করতে না পেরে তিনি সরাসরি চড়াও হন আর্জেন্টিনার তারকা স্ট্রাইকার লাউতারো মার্টিনেজের ওপর এবং তাঁকে সজোরে ধাক্কা মারেন। পরে সতীর্থরা এসে রজার্সকে টেনে সরিয়ে নিয়ে যান। এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির জন্য এখনও পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলেও ফিফার নজরদারিতে রয়েছে পুরো বিষয়টি।
আমেরিকা থেকে ইংল্যান্ড, দিকে দিকে র*ক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
মাঠের এই মারামারি দ্রুত সংক্রামিত হয় গ্যালারিতেও। ম্যাচের শুরুতেই ইংল্যান্ডের জাতীয় সংগীতের সময় আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা অহেতুক চিৎকার ও হইচই করে ইংরেজদের বিব্রত করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। ম্যাচ শেষ হতেই স্টেডিয়ামের ভেতর ও বাইরে দুই দেশের সমর্থকরা একে অপরের ওপর লাঠি ও কিল-চড় নিয়ে চড়াও হন। পরিস্থিতি এতটাই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে যে বহু সমর্থক র*ক্তাক্ত হন এবং পুলিশ এসে লাঠিচার্জ করে বহু সমর্থককে গ্রেফতার করতে বাধ্য হয়। আটলান্টা ছাড়াও আমেরিকার নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সির মতো শহরে এবং খোদ ইংল্যান্ডের বার্মিংহ্যামেও দুই দেশের ফুটবল ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক হাতাহাতি ও হিংসার খবর মিলেছে। সব মিলিয়ে, এই ফুটবল যুদ্ধ মাঠ ছাড়িয়ে এক আন্তর্জাতিক অশান্তির রূপ ধারণ করল।






