স্বাস্থ্য

কিডনি রোগে আক্রান্ত দেশের প্রায় ১৩.৮ কোটি মানুষ! বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে ভারত

শুধু গত বছরই প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষের মৃত্যু ঘটেছে এই রোগে।

Truth Of Bengal: নতুন এক গবেষণা অনুযায়ী, ভারতে বর্তমানে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বাধিক। দ্য ল্যানসেট-এ প্রকাশিত সমীক্ষা অনুসারে, ২০২৩ সালে ভারতে প্রায় ১৩.৮ কোটি মানুষ এই রোগে ভুগছিলেন, যা চীনের ১৫.২ কোটির পরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন (IHME)-এর গবেষকরা ১৯৯০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ২০৪টি দেশ ও অঞ্চলের স্বাস্থ্য-তথ্য বিশ্লেষণ করে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন। সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর নবম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে CKD। শুধু গত বছরই প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষের মৃত্যু ঘটেছে এই রোগে।

গবেষণায় দেখা যায়, উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের হার সবচেয়ে বেশি (১৮ শতাংশ করে), এরপর দক্ষিণ এশিয়ায় (১৬ শতাংশ) এবং সাব-সাহারান আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকায় (প্রায় ১৫ শতাংশ)। গবেষকরা সতর্ক করেছেন, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে- যেমন ভারত, যেখানে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা প্রায়ই বিলম্বিত হয়, সেখানে CKD ক্রমশ একটি নীরব স্বাস্থ্য-সংকটে পরিণত হচ্ছে।

গবেষণার অন্যতম লেখক ও IHME-এর অধ্যাপক থিও ভস বলেন, “দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ একদিকে অন্যান্য বড় অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ায়, অন্যদিকে নিজেও একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা। তবুও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এই রোগ প্রয়োজনীয় গুরুত্ব পাচ্ছে না।”

গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, CKD হৃদরোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ। ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে মোট হৃদরোগজনিত মৃত্যুর প্রায় ১২ শতাংশ CKD-র কারণে হয়েছে। এই রোগটি হৃদরোগজনিত মৃত্যুর সপ্তম প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে, ডায়াবেটিস ও স্থূলতার আগেই।

গবেষকরা কিডনি রোগের ১৪টি ঝুঁকির কারণ চিহ্নিত করেছেন, যার মধ্যে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও স্থূলতা প্রধান। এসব শারীরিক সমস্যা একে অপরের সঙ্গে যুক্ত এবং যথাসময়ে নিয়ন্ত্রণ না করলে কিডনির ক্ষতি দ্রুত বাড়ে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ফল ও শাকসবজির কম গ্রহণ এবং অতিরিক্ত লবণ (সোডিয়াম) খাওয়া কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। ভারতে যেখানে প্রক্রিয়াজাত উচ্চ-সোডিয়ামযুক্ত খাবার ও ফলের স্বল্পতা সাধারণ, সেখানে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন ও সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি।

গবেষকদের মতে, অধিকাংশ CKD রোগীই প্রাথমিক পর্যায়ে থাকেন। ফলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রাথমিক শনাক্তকরণ অত্যন্ত জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা গেলে রোগের অগ্রগতি ধীর করা সম্ভব এবং ডায়ালিসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপনের মতো জটিল চিকিৎসা এড়ানো যায়।

তবে গবেষণায় বলা হয়েছে, সাশ্রয়ী চিকিৎসা ও প্রতিস্থাপন সুবিধার সমান প্রাপ্যতা এখনও বিশ্বজুড়ে চ্যালেঞ্জ। গবেষকদের পরামর্শ, রোগ নির্ণয় সহজ করা, সাশ্রয়ী চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপে বিনিয়োগ বাড়ানোই দীর্ঘমেয়াদে এই রোগের প্রভাব কমাতে সহায়ক হতে পারে।

Related Articles