কলকাতাবিনোদন

ভোটের আগেই উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি! কবি শ্রীজাতর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ

সেই সম্ভাবনা রুখতেই এই আগাম সতর্কতা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে

Truth of Bengal: আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যে নজিরবিহীন কড়াকড়ি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। এই প্রেক্ষাপটে একটি পুরনো মামলার জেরে বিশিষ্ট কবি শ্রীজাতর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের পুরনো নির্দেশ কার্যকর করতে পুলিশকে দ্রুত তৎপর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। প্রশাসনের আশঙ্কা, নির্বাচনের প্রাক্কালে কবির কোনও মন্তব্য বা কর্মকাণ্ড থেকে প্ররোচনা ছড়িয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে। সেই সম্ভাবনা রুখতেই এই আগাম সতর্কতা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জয়প্রকাশ মজুমদার দাবি করেছেন, এই ঘটনা বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতির ওপর সরাসরি আঘাত। তাঁর অভিযোগ, ভারতীয় জনতা পার্টির প্ররোচনায় পা দিয়েই নির্বাচন কমিশন শ্রীজাতর বিরুদ্ধে এই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। নির্বাচনের আগে পরিকল্পিতভাবে ভয় দেখানোর রাজনীতি করা হচ্ছে বলে তিনি সরব হয়েছেন।

অন্যদিকে তৃণমূলের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। দলের নেতা দেবজিৎ সরকার পাল্টা যুক্তি দিয়ে জানিয়েছেন যে, শ্রীজাতকে গ্রেফতারের এই নির্দেশ দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের আদালত। আদালতের পুরনো নির্দেশ পালিত না হওয়ায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। পরাজয়ের আশঙ্কায় তৃণমূল মানুষকে ভুল পথে চালনা করার চেষ্টা করছে এবং মিথ্যা রটনা ছড়াচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির খবর প্রকাশ্যে আসতেই সাহিত্যিক মহলে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় এবং বিনোদ ঘোষালের মতো প্রথিতযশা সাহিত্যিকরা এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন, গণতান্ত্রিক দেশে কীভাবে কবি ও সাহিত্যিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং শিল্প সংস্কৃতির অধিকার এভাবে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। সৃজনশীল মানুষদের সঙ্গে এই ধরনের আচরণ সংস্কৃতির পীঠস্থান হিসেবে পরিচিত বাংলার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় বলে তাঁরা মনে করছেন।

Related Articles