পাহাড় যাওয়ার বাস অমিল! শিলিগুড়িতে ধৈর্য হারিয়ে টার্মিনালে তাণ্ডব উত্তেজিত যাত্রীদের
র্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর বাসের দেখা না পেয়ে ধৈর্য হারিয়ে উত্তেজিত জনতা টার্মিনাস চত্বরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
Truth of Bengal: বৃহস্পতিবার রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গ জুড়ে গণপরিবহন ব্যবস্থায় নজিরবিহীন সংকট তৈরি হয়েছে। ভোটের ডিউটিতে ব্যবহারের জন্য নির্বাচন কমিশন বড় সংখ্যায় সরকারি ও বেসরকারি বাস এবং ছোট গাড়ি অধিগ্রহণ করে নেওয়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পাহাড় থেকে সমতল সর্বত্রই যানবাহনের আকাল চরমে। বুধবার সকাল থেকেই এই সংকটের জেরে শিলিগুড়ির তেনজিং নোরগে বাস টার্মিনাস কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর বাসের দেখা না পেয়ে ধৈর্য হারিয়ে উত্তেজিত জনতা টার্মিনাস চত্বরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
শিলিগুড়ির এই প্রধান বাস টার্মিনাসে ভাঙচুরের মাত্রা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে টিকিট কাউন্টার, দামী কম্পিউটার এবং আসবাবপত্র চুরমার হয়ে যায়। অভিযোগ উঠেছে যে, হাজার হাজার যাত্রী দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও কাউন্টার থেকে কোনো সদুত্তর মিলছিল না। এদিকে ভিনরাজ্য থেকে ভোট দিতে আসা পরিযায়ী শ্রমিক এবং সাধারণ যাত্রীদের ভিড়ে টার্মিনাস চত্বরে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। বাসের জন্য দীর্ঘ হাহাকারের পর পুঞ্জীভূত জনরোষ আছড়ে পড়ে টার্মিনাসের সরকারি সম্পত্তির ওপর। খবর পেয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও এলাকায় এখনো চাপা উত্তেজনা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের এই বিপুল গাড়ি অধিগ্রহণের প্রভাব পড়েছে পাহাড়ের যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও। বর্তমানে হাতেগোনা যে ক’টি বাস রাস্তায় চলছে, সেগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী যাতায়াত করছেন। এমনকি বাসের গেটে বাদুড়ঝোলা ভিড় নিয়ে বিপজ্জনকভাবে পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথে গাড়ি চলতে দেখা যাচ্ছে। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোট প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই সমস্যা মেটার সম্ভাবনা কম।
বাস টার্মিনাস চত্বরে নিরাপত্তা জোরদার করা হলেও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এখনো প্রশমিত হয়নি। বিশেষ করে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারগামী যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, নির্বাচনের মতো মেগা ইভেন্টের সময় গণপরিবহন সচল রাখা এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমানো এখন প্রশাসনের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপাতত কয়েক দিন উত্তরবঙ্গবাসীকে এই যাতায়াতের ঝক্কি সহ্য করতে হবে বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা।






