রাজ্যের খবর

চাকরি নেই, তাও নেই কর্তব্যে ইতি! ডিউটিতে হাজিরা দিলেন ‘চাকরিহারা’ রাকেশ

ব্যক্তিগত লড়াই দূরে সরিয়ে গণতন্ত্রের কাজে ‘ফার্স্ট পোলিং অফিসার’, বুনিয়াদপুর কলেজে নজর কাড়লেন রাকেশ আলম।

বিশ্বদীপ নন্দী, দক্ষিণ দিনাজপুর: চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা, আইনি লড়াই আর ভবিষ্যতের অন্ধকার, সব কিছুকে সঙ্গী করেই গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হলেন ২৬ হাজার চাকরিহারা শিক্ষকদের অন্যতম পরিচিত মুখ রাকেশ আলম। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি খোয়ানোর পর ফের পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হলেও নিয়োগের ভাগ্য এখনও ঝুলে। কিন্তু সেই ব্যক্তিগত যন্ত্রণা আর ক্ষোভকে দূরে সরিয়ে রেখে বুধবার ডিসি-আরসি (DC-RC) কেন্দ্রে ভোটকর্মীর গুরুদায়িত্ব পালনে দেখা গেল উত্তরবঙ্গের এই শিক্ষককে।

গঙ্গারামপুর মহকুমার বুনিয়াদপুর কলেজে এদিন কুশমণ্ডি ও হরিরামপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন রাকেশ। এবার নিয়ে মোট পাঁচবার ভোটকর্মীর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। বর্তমানে তাঁর পদমর্যাদা ‘ফার্স্ট পোলিং অফিসার’। যে মানুষটি গত কয়েক মাস ধরে রাস্তায় বসে নিজের হকের চাকরির দাবিতে লড়াই করেছেন, সেই রাকেশকেই এদিন দেখা গেল ইভিএম আর ভোটার তালিকার নথিপত্র সামলাতে।

কেন এই কঠিন পরিস্থিতিতেও নির্বাচনের কাজে যোগ দিলেন? রাকেশের স্পষ্ট জবাব, “মানসিকভাবে চরম ভেঙে পড়লেও এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি দাঁড়িয়েও আমি ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশকে সম্মান জানাই। এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সফল করা আমাদের সাংবিধানিক কর্তব্য, তাই নিজের ব্যক্তিগত লড়াইকে পাশে সরিয়েই আমি কাজে এসেছি।”

যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চের উত্তরবঙ্গের প্রতিনিধি হিসেবে রাকেশ আলমের এই কর্তব্যনিষ্ঠা নজর কেড়েছে সহকর্মীদেরও। যখন তাঁর নিজের কর্মজীবনই প্রশ্নের মুখে, তখন দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তাঁর এই নিঃস্বার্থ অংশগ্রহণ এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। ভোটের ময়দানে রাকেশ যেন নিঃশব্দে বুঝিয়ে দিলেন, ব্যক্তিগত সংকট পাহাড়প্রমাণ হলেও কর্তব্যের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়া চলে না।