ভোটের মুখে ‘মদ’ বন্ধে চরম বিভ্রান্তি! রাজ্যজুড়ে শাটডাউন কেন? এক্সাইজ কমিশনারের ঘাড়ে দায় ঠেললেন সিইও
ভোট নেই যেখানে, মদ মিলবে না সেখানেও! কমিশনের নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে জেরবার আমজনতা
Truth of Bengal: ভোটের মুখে গোটা বাংলায় মদের দোকান বন্ধের নির্দেশে চরম বিভ্রান্তি! প্রথম দফার নির্বাচনের তিন দিন আগে থেকেই রাজ্যজুড়ে শুষ্ক দিন (Dry Day) ঘোষণার সিদ্ধান্তে বিষ্ময় প্রকাশ করলেন খোদ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই বিষ্ফোরক মন্তব্যের মাধ্যমে গোটা দায় এক্সাইজ কমিশনারের ঘাড়ে ঠেলে দিয়েছেন তিনি। কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী যেখানে ভোট, শুধুমাত্র সেখানেই ৪৮ ঘণ্টা আগে মদের দোকান বন্ধ হওয়ার কথা। কিন্তু কলকাতা-সহ রাজ্যের অন্য সব জেলাতেও কেন দোকান বন্ধ, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
মনোজ আগরওয়াল এদিন বলেন, “নির্বাচন কমিশনের (ECI) নিয়ম হল, যেখানে ভোট রয়েছে সেখানে ৪৮ ঘণ্টা আগে মদের দোকান বন্ধ করতে হবে। প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোট গ্রহণ হবে। সেখানে আজ থেকে মদের দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা।” এরপরই তিনি যোগ করেন, “কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যে কেন বন্ধ? আমিও তো এটা শুনে অবাক হচ্ছি। আমি এক্সাইজ কমিশনারকে জিজ্ঞেস করব কেন তিনি এই নির্দেশ জারি করেছেন?” মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের এই দাবি ঘিরে প্রশাসনিক স্তরে রীতিমতো হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে।
সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের লক্ষ্যে জাতীয় নির্বাচন কমিশন একের পর এক বেনজির সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে দাবি করলেও, এই নয়া নিয়ম নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, কমিশনের সাধারণত ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বার ও মদের দোকান বন্ধ করে। কিন্তু এবার সেই নিয়ম বদলে জানানো হয়েছে, গোটা রাজ্যে প্রথম দফায় ২০-২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফায় ২৫-২৯ এপ্রিল পর্যন্ত মদের দোকান ও পানশালা বন্ধ থাকবে। ৪ মে ভোটগণনার দিনও সারাদিন শুষ্ক দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের বিষ্ময় এবং এক্সাইজ কমিশনারের ক্ষমতার দ্বন্দ্বে এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি। ভোটের প্রাক্কালে এমন বিভ্রান্তিকর নির্দেশিকা ভোটারদের বিভ্রান্ত করছে বলেই অভিযোগ বিরোধী দলগুলোর। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যেখানে ভোট নেই, সেখানে কেন মদের দোকান বন্ধ করে রাখা হয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এখন রাজ্য আবগারি দফতরের দিকেই নজর সবার।





