লাল ফিতের ফাঁসে আটকাবে না বিধায়কদের আর্জি! শুভেন্দুর ঐতিহাসিক প্রস্তাবে প্রশংসায় পঞ্চমুখ ফিরহাদ
বিধায়কদের দাবিতে সরাসরি নজর সিএমও-র! বিধানসভার ইতিহাসে নজিরবিহীন কড়া সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর!
Truth of Bengal: রাজ্য বিধানসভার কক্ষে দাঁড়িয়ে এলাকার একাধিক জরুরি জনস্বার্থ বিষয়ক সমস্যার কথা তুলে ধরেন বিধায়করা। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতা ও লাল ফিতের ফাঁসে আটকে দিনের পর দিন সেই আর্জি পড়ে থাকত ফাইলেই। এবার আর কোনও বিধায়কের তোলা আর্জি অহেতুক পড়ে থাকবে না; মেটানো হবে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে। সোমবার রাজ্য বিধানসভায় নজিরবিহীন এই বড় ঘোষণাটি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর বিরোধী-শাসক ভেদাভেদ ভুলে বিধানসভার ইতিহাসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর এই যুগান্তকারী পদক্ষেপের মুক্তকণ্ঠে প্রশংসা করলেন তৃণমূল বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম।
এদিন বিধানসভার অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দেন, “বিধানসভার উল্লেখ পর্বে বিধায়কদের উত্থাপিত সব দাবি স্পিকার যেন আগামী ৭ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানোর বন্দোবস্ত করেন। সেই দফতরের কাজ হবে পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে বিধানসভায় স্পষ্ট উত্তর জমা দেওয়া অথবা সংশ্লিষ্ট বিধায়ককে বিস্তারিত জানানো। যদি প্রস্তাবিত কাজ করা সম্ভব হয়, তবে তা করতে হবে। আর যদি কাজের জটিলতার জন্য না করা যায় বা দেরি হয়, তবে তার স্পষ্ট কারণও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জানাতে হবে।”
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে মুখ্যমন্ত্রী আরও নির্দেশ দেন, বিধানসভা সচিবালয় যেন মুখ্যমন্ত্রীর দফতর (CMO)-এ তাঁর প্রাইভেট সেক্রিটারির কাছে উত্থাপিত সকল দাবির তালিকা পাঠায়। প্রতি ৩ মাস অন্তর এই সমস্ত দাবির বিষয়ে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হলো, তার একটি ‘কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট’ খতিয়ে দেখবেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে। শুভেন্দু সাফ জানান, বিধানসভা হলো মানুষের মৌলিক দাবিদাওয়া ও সমস্যা সমাধানের সর্বোচ্চ মঞ্চ, তাকে অবহেলা করা যাবে না।
শুভেন্দুর এই ঘোষণার পরেই পরিষদীয় সৌজন্যের এক অন্য ছবি উঠে আসে বিধানসভায়। তৃণমূল বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আমি এর আগেও বিধায়ক পদে ছিলাম। কিন্তু বিধানসভায় তোলা দাবি নিয়ে কী অ্যাকশন নেওয়া হল, তা এভাবে বিধায়কদের সম্মান দিয়ে জানানো হত না। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ইতিহাসে আজ এক নতুন অধ্যায় ও ইতিহাস তৈরি হল। এই উদ্যোগকে নিশ্চিতভাবে স্বাগত জানাই।” মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শুরু থেকেই শাসক ও বিরোধী উভয় পক্ষের সামঞ্জস্য রেখেই বিধানসভা পরিচালনার আশ্বাস দিয়ে এসেছেন, আর ফিরহাদের এই অম্লান মন্তব্য সেই সুস্থ রাজনৈতিক বাতাবরণেই যেন আনুষ্ঠানিক সিলমোহর বসাল।






