রাজ্যের খবর

‘কিছু দালাল দলটাকে শেষ করে দিল’, তৃণমূল ছাড়লেন মমতার ৪০ বছরের সঙ্গী তপন দাশগুপ্ত

একই সঙ্গে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করে তাঁর মন্তব্য, “শুভেন্দু অধিকারী ভালো ছেলে। ভালো কাজ করছে।”

Truth of Bengal: তৃণমূলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী তথা প্রাক্তন মন্ত্রী তপন দাশগুপ্ত। রবিবার দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করে তিনি অভিযোগ করেন, দলের ভিতরে কয়েকজন ‘দালালের’ দাপটেই সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়েছে। গত দু’মাস ধরে অনুগামী ও দলীয় কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি।বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয়ের জন্য বিদ্রোহী শিবিরের একাধিক নেতার মতো তপনও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে দায়ী করেছেন। একই সঙ্গে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করে তাঁর মন্তব্য, “শুভেন্দু অধিকারী ভালো ছেলে। ভালো কাজ করছে।” তবে তৃণমূল ছাড়ার পর তিনি কোন রাজনৈতিক দলে যোগ দেবেন, তা এখনও স্পষ্ট করেননি। তপনের দাবি, সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে দল প্রার্থী করেনি। সেই সিদ্ধান্তে তিনি ক্ষুব্ধ হলেও এতদিন প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে মুখ খোলেননি। এর মধ্যেই তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী অসিত মজুমদারকে হুগলি-শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি করে তৃণমূল। বিষয়টি নিয়ে তপনের অনুগামীদের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।

প্রাক্তন মন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি এখনই সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নিচ্ছেন না। তবে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেবেন। তাঁর কথায়, “দিদির জন্য খারাপ লাগছে। কিন্তু কিছু দালাল দলটাকে শেষ করে দিয়েছে।” তৃণমূলের পুরনো সংগঠকদের প্রসঙ্গ তুলে তপন বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও মুকুল রায় যৌথভাবে দলটি গড়ে তুলেছিলেন। পরবর্তী সময়ে মুকুল রায়, অর্জুন সিং, শুভেন্দু অধিকারী এবং তাপস রায়ের মতো অভিজ্ঞ সংগঠকদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তপনের দাবি, “একজন ব্যক্তিকে সামনে তুলে ধরতেই দক্ষ সংগঠকদের বলির পাঁঠা করা হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ নির্বাচনে তার জবাব দিয়েছেন।” অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগের মন্তব্যকেও কটাক্ষ করে তাঁর বক্তব্য, “দলকে ডুবিয়ে দিয়ে এখন বলা হচ্ছে পদ ছাড়বেন!” একসময় হুগলি জেলার তৃণমূলের রাজনীতিতে দুটি স্পষ্ট শিবির ছিল। একদিকে চুঁচুড়ার নেতা অসিত মজুমদার, অন্যদিকে সপ্তগ্রামের বিধায়ক তপন দাশগুপ্ত। নির্বাচনের পরে অসিত এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে রয়েছেন। হাজতবাসের পর তিনি জানিয়েছিলেন, অতীতেও দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি এবং ভবিষ্যতেও করবেন না। পরে তাঁকেই হুগলি জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেন মমতা।

অন্যদিকে, প্রায় চার দশকের রাজনৈতিক সম্পর্কের অবসান ঘটিয়ে তৃণমূল ছাড়লেন তপন। সপ্তগ্রামের প্রাক্তন বিধায়ক হিসেবে তিনি তিনবার নির্বাচিত হয়েছেন এবং দু’দফায় রাজ্যের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেছেন। তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি ছাড়াও ফুরফুরা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি, পশুপালন দপ্তর এবং ফরেস্ট কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন তিনি। রবিবার দলীয় সদস্যপদ-সহ তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন তপন দাশগুপ্ত। দলের নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর ইতিমধ্যেই একাধিক নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিয়েছেন। কয়েকজন প্রাক্তন সাংসদ এনসিপিআইয়ে যোগ দিয়ে এনডিএর ঘনিষ্ঠ হয়েছেন। এই রাজনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যেই তপন দাশগুপ্তের দলত্যাগ তৃণমূলের সাংগঠনিক সংকট আরও বাড়াল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Related Articles