কলকাতা

“কলকাতা আমার হারিয়ে যাওয়া ঘর!”, ২০ বছরের ‘নির্বাসনের’ পর শহরে ফেরার আবেগ তসলিমার গলায়

রবীন্দ্রসদনে তসলিমার অনুষ্ঠানে থাকতে পারেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু!

Truth of Bengal: “কলকাতা আমার কাছে শুধু একটা শহর নয়, ওটা আমার হারিয়ে যাওয়া ঘর। মনে হচ্ছে দীর্ঘ নির্বাসনের পর নিজের ঘরে ফিরছি।”, দীর্ঘ দুই দশকের নির্বাসন পর্ব কাটিয়ে অবশেষে ‘মুক্ত’ বাংলায় পা রাখার আগে এভাবেই নিজের চেপে রাখা আবেগ উগরে দিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। আগামী ১ আগস্ট কলকাতার ঐতিহ্যবাহী রবীন্দ্রসদনে মৌলবাদ বিরোধী কবি-সাহিত্যিকদের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চলেছেন তিনি। বদলের বাংলায় সংস্কৃতি জগতের জন্য এ এক নজিরবিহীন ও দারুণ আনন্দের খবর। কলকাতায় তাঁর নিরাপত্তার সুনিশ্চিত ব্যবস্থা করার জন্য বর্তমান রাজ্য সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদও জানিয়েছেন লেখিকা।

২০০৭ সালের নভেম্বর মাসে একপ্রকার বাধ্য হয়েই কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল তসলিমা নাসরিনকে। সে সময় তাঁর ‘দ্বিখণ্ডিত’ উপন্যাসকে কেন্দ্র করে কট্টরপন্থীদের একাংশের তাণ্ডবে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল কলকাতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজপথে সেনা পর্যন্ত নামাতে হয়েছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য তাঁর নিজস্ব বামমনস্ক সাহিত্যিক বৃত্তের পরামর্শে তসলিমার বইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন এবং তাঁকে শহর ছাড়ার নির্দেশ দেন। মুক্তচিন্তার প্রবক্তা দাবি করা বামেদের সেই সিদ্ধান্ত বাংলার সাহিত্যের ইতিহাসে এক অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘ ১৫ বছর রাজ্যের মসনদে থাকলেও ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণে তসলিমাকে ফেরানোর কোনও সাহসী পদক্ষেপ করেননি।

বদলের বাংলায় আলোকময় অধ্যায়

তবে রাজ্যে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হতেই পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। মুক্তচিন্তা ও বাকস্বাধীনতাকে মর্যাদা দিয়ে তসলিমা নাসরিনের কলকাতায় ফেরার পথ মসৃণ করেছে নতুন সরকার। আগামী ১ আগস্ট ‘সেক্যুলার মিশন’ এবং ‘এইচআরবিএফএফ’ (HRBFF)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করবেন তিনি। রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, ওই দিন রবীন্দ্রসদনের মঞ্চে লেখিকাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত থাকতে পারেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও।

“১৮ বছর ৮ মাস ১০ দিন পর ফিরছি”

কলকাতায় ফেরার দিনক্ষণ গোনার কথা উল্লেখ করে তসলিমা নাসরিন বলেন, “ঠিক ১৮ বছর ৮ মাস ১০ দিন পর আমি কলকাতায় ফিরছি। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। ২০০৭ সালে আমায় এই শহর ছাড়তে হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু কলকাতা সব সময় আমার মনের ভেতরেই বেঁচে ছিল। এত বছর পর যখন কলকাতার মাটিতে পা রাখব, তখন আনন্দ, আবেগ, বেদনা, সব অনুভূতি একসাথে আছড়ে পড়বে।” নির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে তাঁর এই ঘরে ফেরার দিকেই এখন চাতক পাখির মতো তাকিয়ে রয়েছে গোটা বাংলার সংস্কৃতি ও সাহিত্য মহল।

Related Articles