নিউটাউনের বহুতলে নেটপ্রভাবী তৃষার রহস্যমৃত্যু! রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার লিভ-ইন পার্টনার, তীব্র শোরগোল
খুন নাকি আত্মহত্যা? নিউটাউনে ২৫ বছরের ইনফ্লুয়েন্সারের মর্মান্তিক পরিণতিতে ঘনীভূত ধোঁয়াশা!
Truth of Bengal: নিউটাউনের একটি ভাড়া আবাসন থেকে ২৫ বছর বয়সী এক তরুণীর রহস্যজনক ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। রবিবার গভীর রাতে পুলিশ ফ্ল্যাট থেকে মৃতদেহের পাশাপাশি তাঁর লিভ-ইন সঙ্গীকেও গুরুতর জখম ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র শোরগোল ও নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত তরুণীর নাম তৃষা সাহা। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় যথেষ্ট সক্রিয় ছিলেন এবং নেটপ্রভাবী (Social Media Influencer) হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটিতে। প্রায় চার মাস আগে সৌভিক রায় নামের এক যুবকের সঙ্গে নিউটাউনের চণ্ডীবেড়িয়ার একটি বহুতল আবাসনে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে লিভ-ইন বা সহবাস করা শুরু করেন তৃষা।
রবিবার গভীর রাতে প্রতিবেশীদের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে নিউটাউন থানার পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়। ঘরে ঢুকে পুলিশ তৃষার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পায়। পাশাপাশি, ওই ফ্ল্যাটেরই অন্য একটি ঘর থেকে গুরুতর জখম ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় সৌভিককে। তড়িঘড়ি তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রাথমিক তদন্ত ও পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে পুলিশের অনুমান, ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন বা দীর্ঘদিনের বচসার জেরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তৃষার শরীরে একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ আধিকারিকদের মতে, তৃষাকে মারধর করার পর গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল কি না, এবং তারপর সৌভিক নিজে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্তা জানান, “যুবকের হাতের শিরা কাটা ছিল। রক্তে ভেসে যাওয়া অবস্থায় তিনি হয়তো প্রেমিকার ঝুলন্ত দেহ জড়িয়ে ধরেছিলেন, যার ফলে মৃতার পায়েও বিপুল পরিমাণে রক্ত লেগে থাকতে দেখা গেছে। তবে এখনই চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।” হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সৌভিকের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পুরো ঘটনার জট খোলার চেষ্টা করবে নিউটাউন থানার পুলিশ।





