মাঝরাতে পুলিশের হানা! ত্রাণের সামগ্রী চুরির অভিযোগে আটক কালনার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক
গরিবের ত্রাণের চাল-ত্রিপল চুরির দায়? কালনার প্রাক্তন বিধায়ককে ধরতেই মাঝরাতে উঠল ‘চোর চোর’ স্লোগান!
Truth of Bengal: বঙ্গে একের পর এক দুর্নীতি কাণ্ডে বিদায়ী শাসকদলের নেতাদের শ্রীঘরে যাওয়ার সিলসিলা যেন থামার নামই নিচ্ছে না। এবার গরিব মানুষের জন্য আসা সরকারি ত্রাণের সামগ্রী নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে আটক হলেন কালনা বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ (Debaprasad Bag)। সোমবার গভীর রাতে কালনা শহরে অবস্থিত ওই হেভিওয়েট নেতার বাসভবনে আচমকা হানা দেয় নাদনঘাট থানার পুলিশের একটি বিশাল টিম। মাঝরাতের এই হাই-ভোল্টেজ পুলিশি অ্যাকশন এবং শেষমেশ প্রাক্তন বিধায়কের আটকে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে রণক্ষেত্রের রূপ নিয়েছে গোটা কালনা এলাকা।
পুলিশ দেখে পিছনের দরজা দিয়ে পালানোর চেষ্টা!
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার গভীর রাতে নাদনঘাট থানার পুলিশ যখন প্রাক্তন বিধায়কের বাড়ি ঘেরাও করে, তখন বাড়ির ভেতরেই উপস্থিত ছিলেন দেবপ্রসাদ বাগ। পুলিশ আধিকারিকেরা দীর্ঘক্ষণ দরজায় ধাক্কাধাক্কি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ মিলছিল না। অভিযোগ, গ্রেফতারি এড়াতে বাড়ির মূল ফটক না খুলে অন্য একটি পিছনের দরজা দিয়ে চুপিচুপি পালানোর চেষ্টা করছিলেন প্রাক্তন বিধায়ক। কিন্তু ততক্ষণে ওত পেতে থাকা চতুর পুলিশ কর্মীরা তাঁকে চারদিক থেকে ছেঁকে ধরেন এবং মাঝরাত্রেই তাঁকে আটক করা হয়। এদিকে গভীর রাতে এলাকায় পুলিশের সাইরেন এবং এই নাটকীয় কাণ্ডকারখানার খবর চাউর হতেই থিকথিকে ভিড় জমে যায় বাড়ির সামনে। দেবপ্রসাদ বাগকে পুলিশ গাড়িতে তোলার সময় শয়ে শয়ে সাধারণ মানুষ তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন।
ব্লক সভাপতির জবানবন্দিতেই ফাঁস বিধায়কের নাম
তদন্তকারী আধিকারিকদের সূত্রে খবর, সরকারি ত্রাণ সামগ্রী আত্মসাৎ ও কালোবাজারি সংক্রান্ত একটি পুরনো মামলায় দিনকয়েক আগেই কালনা ২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি প্রণব রায়কে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। লকআপে রেখে প্রণব রায়কে দফায় দফায় জেরা করার পরেই এই আন্তর্জাতিক ত্রাণ কেলেঙ্কারির অন্যতম প্রধান চাঁই হিসেবে প্রাক্তন বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগের নাম উঠে আসে। ব্লক সভাপতির বয়ান ও উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই সোমবার রাতে এই মেগা অপারেশন চালায় পুলিশ।
ক্ষমতা হারানোর পর থেকে কালনা ও বর্ধমান জুড়ে তৃণমূলের দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের বিরুদ্ধে আমজনতার যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, এই আটকের ঘটনার পর তা যেন আরও একবার প্রমাণিত হল। গরিবের হকের ত্রাণের জিনিস চুরি করার মতো সংবেদনশীল মামলায় প্রাক্তন বিধায়কের এই পরিণতি ছাব্বিশের বাংলার রাজনীতিতে তৃণমূলকে যে আরও ব্যাকফুটে ঠেলে দিল, তা বলাই বাহুল্য। ওদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত নেতাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।






