মমতার প্রচারের বিরোধিতা করায় আক্রান্ত শিক্ষক, রানাঘাটে প্রশিক্ষণ শিবিরে উত্তেজনা
বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
Truth Of Bengal: নদিয়ার রানাঘাটে বিধানসভা নির্বাচনের প্রশিক্ষণ চলাকালীন রাজ্য সরকারের প্রচারমূলক ভিডিও দেখানো এবং এক শিক্ষককে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। প্রহৃত শিক্ষকের নাম সৈকত চট্টোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের প্রতিবাদ করায় রানাঘাট-১ ব্লকের বিডিও এবং সরকারি কর্মীরা তাঁকে একটি ঘরে আটকে মারধর করেন। এই ঘটনায় ওই শিক্ষকের কপাল ফেটে রক্ত ঝরতে দেখা যায়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রানাঘাট দেবনাথ ইনস্টিটিউট ফর বয়েজ স্কুলে। সেখানে ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণ চলছিল। সৈকত চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর সহকর্মীদের দাবি, প্রশিক্ষণের শুরুতে প্রজেক্টরের মাধ্যমে দিঘার জগন্নাথ মন্দির নির্মাণসহ রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের ভিডিও দেখানো হচ্ছিল। সৈকত এর প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন যে, নির্বাচনের আগে এভাবে মুখ্যমন্ত্রীর প্রচার চালানো আচরণবিধির লঙ্ঘন। অভিযোগ, এই প্রতিবাদের পরেই বিডিও অফিসের কর্মীরা তাঁকে টেনে নিয়ে গিয়ে মারধর করেন এবং বাইরে বেরোলে প্রাণনাশের হুমকি দেন। হামলাকারীরা আদেও সরকারি কর্মী কি না, তা নিয়ে ওই শিক্ষক সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে, এই মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন প্রশিক্ষণের দায়িত্বে থাকা হাঁসখালির বিডিও সায়ন্তন ভট্টাচার্য। তাঁর পালটা দাবি, ওই শিক্ষক প্রথম থেকেই গোলমাল পাকানোর চেষ্টা করছিলেন এবং সরকারি কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। বিডিও-র মতে, ধাক্কাধাক্কির সময় পড়ে গিয়ে সম্ভবত ওই শিক্ষকের মাথা ফেটেছে। এমনকি তিনি ওই শিক্ষককে মানসিক রোগী বলেও কটাক্ষ করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর। রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার শাসকদলকে নিশানা করে দাবি করেছেন, সৈকত চট্টোপাধ্যায় একজন বিজেপি কর্মী বলেই তাঁর ওপর বহিরাগত গুন্ডাদের দিয়ে অমানবিক অত্যাচার চালানো হয়েছে। প্রশিক্ষণ শিবিরে প্রজেক্টরে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে ভোটের আগে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।






