শিক্ষিকা ও প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে বিয়ে রুখল নাবালিকা
বিদ্যালয়ে গিয়ে মেয়েটিকে সংবর্ধনা জানান জেলা শিক্ষা দফতর এবং ব্লকের পুলিশ প্রশাসনের কর্তারা।
Truth Of Bengal: অভিষেক দাস, মালদা: বরযাত্রীসহ হাজির পাত্র। পরিবার তাঁদের আপ্যায়নে ব্যস্ত থাকায় বান্ধবীদের নিয়ে গ্রামেরই বাসিন্দা তথা স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার বাড়িতে হাজির হন কনে। নবম শ্রেণীর ওই ছাত্রীর অনুরোধ, “ ম্যাডাম ‘হেল্প’ করুন, আমি বিয়ে করতে চাই না। পড়াশোনা করে পুলিশ হতে চাই।”(Malda)
ঘটনাটি মালদার (Malda) রতুয়ার প্রত্যন্ত গ্রামের। বিষয়টি জানা মাত্রই পুলিশ ও প্রশাসনকে জানান সেই শিক্ষিকা। এর মাধ্যমে নাবালিকা মেয়েটির বিয়ে রুখে দেন তিনি। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই হইচই পড়ে প্রশাসনিক এবং শিক্ষা মহলে। বিদ্যালয়ে গিয়ে মেয়েটিকে সংবর্ধনা জানান জেলা শিক্ষা দফতর এবং ব্লকের পুলিশ প্রশাসনের কর্তারা।
নাবালিকার বিয়ে রোধ করার জন্য প্রশাসন ‘কন্যাশ্রী ক্লাব’ শুরু করে। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের মাধ্যমে এর প্রচারের কাজ করা হয়। তারপরেও রতুয়ার ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসায় নাবালিকা বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তাঁর বয়স ১৬। মেয়েটি রতুয়ার একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। বাবা ভিন্ রাজ্যের শ্রমিক এবং মা গৃহবধূ। চার ভাই-বোনের মধ্যে মেয়েটি বড়।(Malda)
বিদ্যালয়ের দাবি, মেয়েটি পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাতেও ভাল। গ্রামের বেশির ভাগ মানুষই দিনমজুরি করেন। জানা যায়, কয়েকদিন ধরেই মেয়েটির বাড়িতে বিয়ের আলোচনা চলছিল। বিষয়টিতে রাজী হয়নি সে। তারপরেও বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেইমত, গত ৩ রা সেপ্টেম্বর ঘরোয়া ভাবে মেয়েটির বিয়ের আয়োজন করা হয়। এদিন সন্ধ্যায় রতুয়ার বাসিন্দা দিনমজুর পাত্র বরযাত্রী নিয়ে হাজিরও হয়। তবে মেয়েটির সিদ্ধান্তে সেই অনুষ্ঠান পণ্ড হয়। তাঁর এই সাহসী পদক্ষেপের জন্য সাধুবাদ জানান বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী এবং মালদা জেলা শিক্ষা দফতর।






