রাজ্যের খবর

ফরাক্কায় হুমায়ুনের ‘ফ্লপ শো!’, ফাঁকা জনসভা দেখে হারালেন মেজাজ

“যাঁর সভায় ৫০ জন জোটে না, তিনিই পচা আলু!” ফরাক্কায় হুমায়ুন কবীরকে ধুয়ে দিলেন তৃণমূলের আমিরুল

কল্যাণ বিশ্বাস, মুর্শিদাবাদ: আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের জনসভায় লোক না হওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। একদিকে হেলিকপ্টার বিভ্রাট, অন্যদিকে জনশূন্য জনসভা, সব মিলিয়ে অস্বস্তিতে পড়া হুমায়ুন কবীরকে তীব্র আক্রমণ শানালেন ফরাক্কার তৃণমূল প্রার্থী আমিরুল ইসলাম।

সোমবার দুপুর নাগাদ ফরাক্কা ব্লকের ঘোড়াইপাড়ায় আম জনতা উন্নয়ন পার্টির ফরাক্কার প্রার্থীর ইমতিয়াজ আহমেদ মোল্লাার সমর্থনে সভা করতে আসেন দলের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। হেলিকপ্টারে আসার কথা থাকলেও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে শেষ পর্যন্ত সড়কপথেই পৌঁছান তিনি। তবে সভাস্থলে পৌঁছে মেজাজ হারান চেয়ারম্যান। তীব্র দাবদাহের মধ্যে খোলা মঞ্চ এবং নামমাত্র কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি দেখে মেজাজ হারান তিনি। প্রকাশ্যেই নিজের দলের প্রার্থীর অনভিজ্ঞতা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন।

পরে অবশ্য ড্যামেজ কন্ট্রোলে হুমায়ুন কবীর বলেন, “প্রার্থী নতুন হওয়ায় অভিজ্ঞতার অভাব ছিল। আমি সতর্ক করেছিলাম। আগামী দিনে ফের বড় জনসভা হবে।” সভার পর ​ফরাক্কার তৃণমূলের প্রার্থী আমিরুল ইসলামকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “সামশেরগঞ্জে জিততে পারবেন না বুঝেই পচা আলুর বস্তাকে ফরাক্কার মানুষের ঘাড়ে চাপাতে চাইছে তৃণমূল। কিন্তু বাংলার মানুষ এবার নতুন সরকার দেখবে যার রিমোট কন্ট্রোল আমার হাতেই থাকবে।” ১০০-র বেশি আসন পাওয়ার দাবিও করেন তিনি।

হুমায়ুন কবীরের ‘পচা আলু’ মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী আমিরুল ইসলাম বলেন, “যাঁর সভায় ৫০ জন লোক হয় না, যাঁর গায়ের গন্ধে নিজের কর্মীরাই পালিয়ে যাচ্ছে, পচা আলু আসলে কে তা মানুষ আজ বুঝিয়ে দিয়েছে। লোক যা হয়েছিল তা-ও হেলিকপ্টার দেখতে গিয়েছিল। ​গত বিধনসভায় যে এলাকার ভোটে জিতে ছিলাম, সেই এলাকায় কাজ করেছি এবং মানুষের সঙ্গে, মানুষের পাশে থেকে, এলাকার উন্নয়ন করেছি। দল ঠিক করেছে যে এবার ফারাক্কা বিধানসভায় লড়াই করতে, তাই প্রার্থী করেছেন। আমি ফারাক্কা বিধানসভা মানুষের পাশে থেকে কাজ করে উন্নয়ন করে যাব। এইবার ভোটে হুমায়ুন কবীরের প্রার্থীর জামানত জব্দ হয়ে যাবে এমনকি তিনি বুথে বুথে এজেন্টও দিতে পারবেন না। আম জনতা উন্নয়ন পার্টি আসলে বিজেপির ‘বি-টিম’।” তিনি বলেন, “বিজেপি-আরএসএসের সঙ্গে হাজার কোটি টাকার ডিল করে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ করতেই মাঠে নেমেছেন হুমায়ুন কবীর। একটা ভাইরাল ভিডিওতে নিজেকে উপমুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন। ফরাক্কার মানুষ উন্নয়নের স্বার্থে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই আছেন।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হুমায়ুন কবীরের সভায় ভিড় না হওয়াকে হাতিয়ার করে তৃণমূল যেমন উন্নয়নের প্রচার চালাচ্ছে, তেমনই বিরোধী ভোট কাটাকাটির অঙ্ক নিয়ে চিন্তায় রয়েছে সব পক্ষই। এখন দেখার, নির্বাচনের বাক্সে এই ‘বাকযুদ্ধ’ কতটা প্রভাব ফেলে।

Related Articles