রাজ্যের খবর

হুমায়ুন কবীরের বাড়িতে বিশাল পুলিশ বাহিনী! নিরাপত্তারক্ষীকে মারধরের অভিযোগে আটক নেতা-পুত্র

জুম্মা খানের অভিযোগ, হুমায়ুনের একতলার দফতরের সাধারণ মানুষের সামনেই তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে।

Truth Of Bengal: নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে যখন চর্চায় রয়েছেন হুমায়ুন কবীর, ঠিক তখনই তাঁর বাড়িতে হানা দিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। রবিবার মুর্শিদাবাদের শক্তিপুরে হুমায়ুনের বাসভবনে এই পুলিশি অভিযানের নেপথ্যে রয়েছে তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীকে (PSO) মারধরের অভিযোগ। এই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে হুমায়ুন-পুত্র রবীনকে আটক করেছে পুলিশ। নিরাপত্তারক্ষী জুম্মা খানের অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানা গিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ছুটি চাওয়াকে কেন্দ্র করে। জুম্মা খানের দাবি, তিনি দেশের বাড়িতে যাওয়ার জন্য ছুটি চেয়েছিলেন। কিন্তু এই কথা শুনেই মেজাজ হারান হুমায়ুন কবীরের ছেলে রবীন এবং তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। জুম্মা খানের অভিযোগ, হুমায়ুনের একতলার দফতরের সাধারণ মানুষের সামনেই তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে।এই ঘটনার পরেই তিনি শক্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখতেই পুলিশি তৎপরতা শুরু হয় এবং রবীনকে প্রায় আধ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়।

ছেলের আটকের খবর পেয়েই মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের বিরুদ্ধে রণংদেহি মেজাজে ধরা দিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। ঘটনার সময় তিনি বহরমপুরে ছিলেন। সেখান থেকেই পুলিশ সুপার এস সানিরাজকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “পুলিশ যদি আমার ছেলে, স্ত্রী বা পরিবারের কারও গায়ে হাত দেয়, তবে আগামী বৃহস্পতিবার পুলিশ সুপারের অফিস ঘেরাও করব এবং গোটা বহরমপুর স্তব্ধ করে দেব।” পুলিশের কোনো রকম অশালীন আচরণ বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।

অন্যদিকে, এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে কিছুটা সংযত অবস্থান নিয়েছে জেলা পুলিশ। মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার এস সানিরাজ এই বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তিনি শুধু জানিয়েছেন যে, নিরাপত্তারক্ষীর অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন দল গড়ার পর থেকেই প্রশাসনের সঙ্গে হুমায়ুনের সংঘাত অন্য মাত্রা নিয়েছে, যার প্রতিফলন দেখা গেল রবিবারের এই নাটকীয় ঘটনায়।

Related Articles