কলকাতা

“আমাকে তিহাড়ে পাঠানোর জন্য দায়ী শুধুই অভিষেক!”, ঋতব্রতের দলে যোগ দিয়েই বো*মা ফাটালেন অনুব্রত

“তৃণমূলে আর কেউ থাকবে না, সব শেষ!”, বীরভূমের বেতাজ বাদশার মুখে এ কী ভয়ঙ্কর ভবিষ্যদ্বাণী?

Truth of Bengal: গরুপাচার মামলায় প্রায় আড়াই বছর জেল খাটার পর এবার সরাসরি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের ‘কেষ্ট’ তথা অনুব্রত মণ্ডল কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করলেন কালীঘাট তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বুধবার গোলপার্কে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘ঋত-তৃণমূল’-এর সাংগঠনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে এক নজিরবিহীন বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বীরভূমের এই দাপুটে নেতা। তাঁর স্পষ্ট দাবি, তাঁর আড়াই বছরের জেলবাস এবং তিহাড় যাত্রার জন্য একমাত্র দায়ী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

এখানেই শেষ নয়, দল ছাড়ার পরেই কালীঘাট তৃণমূলের আর্থিক লেনদেন নিয়ে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছেন অনুব্রত। তাঁর দাবি, “বীরভূম থেকে সাড়ে ৩ কোটি টাকা রেভিনিউ পেত সরকার। পরে কয়লার জন্য দিনে ৪০ লক্ষ টাকা করে দিতে হতো।” সেই সাথে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক চরম ভবিষ্যদ্বাণী করে তিনি বলেন, “আগামী দিনে তৃণমূলে আর কেউ থাকবে না। দলটা পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে।”

কোর কমিটি গঠন ও ক্ষোভের বিস্ফোরণ

বীরভূম জেলায় একদা অনুব্রত মণ্ডলের কথাই শেষ কথা ছিল। তাঁর তৈরি করা নিশ্ছিদ্র সংগঠনের ওপর ভর করেই বীরভূমে বারবার গেরুয়া ঝড় আটকে দিয়েছিল ঘাসফুল শিবির। এমনকী জেল থেকে ফেরার পরেও মমতার প্রিয় ‘কেষ্ট’ নিজের জেলা সভাপতির পদ ধরে রাখতে পেরেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে জেলা তৃণমূলে অন্তর্দ্বন্দ্ব ও গোষ্ঠীকোন্দল বাড়তেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বীরভূমের রাশ এককভাবে অনুব্রতের হাতে না রেখে একটি কোর কমিটি গড়ে দেন। সেই কমিটিতে অনুব্রতকে স্রেফ একজন সাধারণ সদস্য করে রাখায় তাঁর মনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়।

ঋতব্রত শিবিরে কেষ্ট-র নয়া অধ্যায়

ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে দলের শোচনীয় ফলাফলের পর দলবদল নিয়ে জল্পনার জবাবে কিছুদিন আগেও অনুব্রত বলেছিলেন, তিনি তৃণমূলকে ভালোবেসে দল করেন এবং সম্মানের সঙ্গে কাজ করতে চান। কিন্তু ভেতরে ভেতরে যে অন্য স্রোত বইছিল, তা পরিষ্কার হয়ে গেল। অবশেষে গত ১১ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে অনুব্রত মণ্ডলকে বীরভূম জেলার সভাপতির দায়িত্ব দেয় ঋতব্রত শিবির। বুধবার গোলপার্কের মেগা বৈঠকে সশরীরে যোগ দিয়ে সেই নতুন রাজনৈতিক ইনিংসের আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন কেষ্ট। অনুব্রতের এই দলবদল এবং সরাসরি অভিষেককে নিশানা করা বীরভূম তথা সমগ্র দক্ষিণবঙ্গের রাজনীতিতে এক বিরাট ওলটপালট আনতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

Related Articles